চট্টগ্রাম নগরে মারধরের পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েস ও ভবনের দারোয়ান এনামুল হক। অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের বেশিরভাগই একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে আইমন (২৪), এনায়েত উল্লাহ (৪৭), মিশকাতুল কায়েস (১৯) ও ভবনের প্রহরী এনামুল হক (৫৫)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, এনায়েত উল্লাহ কিশোর গ্যাং লিডার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ জোর করে নিয়ে যায়।’
একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দৌড়ে আটতলায় উঠে যায়। কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ওপরে উঠে আশফাককে মারধর করার একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত আশফাককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এসব ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় কারা কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ বলেন, ‘নিহতের বাবা ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত আশফাক কবির নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। লেখাপড়ার সুবাদে তিনি ডিসি রোড শিশু কবরস্থানের পাশে কেএম মঞ্জিলের ষষ্ঠতলায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া বাসায় থাকতেন।