পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন মিলছে না কাক্সিক্ষত তেল

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানীর পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এখন সাধারণ চিত্র হয়ে উঠেছে। কয়েক লিটার তেলের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা চালকদের ভোগান্তির শেষ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবারও আসাদগেট এলাকায় সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন, তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও বাংলামোটর এলাকায় মেঘনা ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক পেরিয়ে গলির ভেতর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে গাড়ির লাইন।

চালকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ভোর ৫টায় আলো ফোটার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা। দুপুর নাগাদ লাইনের দৈর্র্ঘ্য কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহনের ভিড়ে সড়কের একাংশ কার্যত অচল। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা মানুষের চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলছে।

‘সকালটাই শেষ হয়ে যায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে’ বলছিলেন  রাইডশেয়ার চালক রাশেদ। প্রতিদিন সকাল ৬টায় বের হন তেলের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য। তার ভাষায়, ‘গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো ৫ ঘণ্টাও হয়ে যায়। কিন্তু আজ দুপুর ২টা পার হয়ে গেল তেল পাব কি না জানি না।’ তিনি বলেন, ‘এই সময়টা যদি রাস্তায় থাকতে পারতাম, তাহলে কমপক্ষে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করতে পারতাম।’ তিনি জানান, গত সপ্তাহে তার তিন দিন এমন গেছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল পাননি। সে সময় পুরো দিনটাই নষ্ট হয়েছে।

আসাদগেট সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই তেল দিচ্ছি। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি তাই অল্প করে দিচ্ছি। প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০% কম তেল পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন আসে, কিন্তু আমরা তেল দিতে পারি মাত্র ২০০-৩০০টিকে।’

গতকাল বাংলামোটর এলাকায় মেঘনা ফিলিং স্টেশনে ৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৮০০ টাকার তেল পান ফুড ডেলিভারি রাইডার রুবেল মিয়া। তিনি জানান, নিয়মিত মেঘনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসেন। সাধারণত সকাল ৭টার দিকে লাইনে এসে দাঁড়ান। আজ প্রায় ৭ ঘণ্টা পর তেল পেয়েছেন।

বাংলামোটরের মেঘনা পেট্রোল পাম্পে দেখা যায়, তেল সংগ্রহ করতে আসা ক্রেতাদের পুলিশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই গ্রাহকদের অসন্তোষের মুখে পড়ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলোসরবরাহ কম, চাহিদা বেশি।’

মোস্তাফিজুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির গাড়িচালক। তিনি সকাল ৮ থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনের তেলের লাইনে। তিনি বলছিলেন, ‘স্যার আগে প্রতিদিন নিজের গাড়ি করে অফিসে যেতেন, কিছু দিন হলো তাকে অফিসে দেওয়ার আগেই এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরপর ২ দিন লাইনে থেকেও তেল পাইনি।’

ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার চালক আব্দুল করিমের কণ্ঠে হতাশা স্পষ্ট। তিনি বলেন, গতকাল রাত ৪টা থেকে লাইনে আছি এখন দুপুর ২টা পার হয়ে গেল। আমার আগে আছে ৯টা গাড়ি। সকালে পাম্প খোলার পর আশা করছিলাম তেল পাব, কিন্তু এখনো তেলের গাড়ি আসেনি। কীভাবে গাড়ির লোন শোধ করব, আর কীভাবে সংসার চালাব। এখন সব কিছু এলোমেলো লাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত