পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পকে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি (প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নে নির্ধারিত বিস্তারিত প্রস্তাব) ইতিমধ্যে প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।
সাড়ে ৩ লাখ মানুষের হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’ বলে জাতীয় সংসদে বর্ণনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সরাইল উপজেলার হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামো সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল আছে, যেটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এবং সেই হাসপাতালটা নিজেই একটা রোগীর মতো।
সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার, দ্রুত বড় নিয়োগ : বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্যপদ রয়েছে। এ ছাড়া কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। গতকাল জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির (১ম-৯ম) গ্রেডের শূন্যপদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম) ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯, ১৭তম-২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫ এবং অন্যান্য পদে ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ রয়েছে।
বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি : ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমনটি জানিয়েছেন। গতকাল বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সাম্প্রতিক আইনি সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ এসএমএস এবং ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে হলফনামার (অ্যাফিডেভিট) মাধ্যমে আবেদন ও লিখিত জবাব দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সরাসরি জেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া, আলাদা মামলার ঝামেলা ছাড়াই মূল মামলার ভেতরেই ডিক্রি ইস্যু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাইম ম্যাগাজিনে প্রভাবশালীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, সংসদে ধন্যবাদ : টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনে প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকায় শুধু তিনি সম্মানিত হননি, তিনি জাতিকেও সম্মানিত করেছেন বলে অধিবেশনে জানানো হয়। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে সংসদকে অবহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। চিফ হুইপ বলেন, টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সাহেবের নাম রয়েছে এবং তিনি সম্মানিত হয়েছেন। তিনি সম্মানিত মানে দেশকে সম্মানিত করা, তিনি এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ নেইআইনমন্ত্রী : বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধ এবং আসন্ন ঢাকা বার নির্বাচনের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে আইনমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংকট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি নাএমন প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মাননীয় সদস্য দুটি বিষয়ের কথা বলেছেনপ্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড। কিন্তু আইনের মধ্যে থাকা ‘অন্য যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ’ অংশটি উনি এড়িয়ে গেছেন। উনি সব বুঝেন, কিন্তু যতটুকু ওনার প্রয়োজন ততটুকুই আনেন।
