সমুদ্রপথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, গত বছর ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সবচাইতে প্রাণঘাতী বছর। গত এক বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি সাতজন যাত্রীর মধ্যে একজন সাগরেই প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের তুলনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই পথে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ, যা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করা শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন নারী ও শিশু। এই করুণ পরিস্থিতি ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পা বাড়িয়েছেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় পর মাত্র ৯ জন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের বর্তমানে জরুরি চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও জরাজীর্ণ নৌকায় করে রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মানবপাচার ও শোষণের চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর বলছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে নিজ দেশে ফিরতে চান। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে তারা এক প্রকার নিরূপায় হয়েই এই মরণযাত্রায় সামিল হচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত