এক বছরে সাগরে ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মৃত

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। গতকাল শুক্রবার ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাবর বালোচ বলেন, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বছর। চলতি বছরও এ মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ বছরের চিত্র তুলে ধরে বালোচ বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ২৮০ জন রোহিঙ্গা যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ট্রলার ডুবে ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জন বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। ইউএনএইচসিআর তাদের চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দিচ্ছে। উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে জানান সংস্থাটির মুখপাত্র। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর এ বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। যার মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মারা গেছেন। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার প্রধান রুটগুলোর মধ্যে এ রুটেই বর্তমানে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করেছেন ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র। তিনি আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন। গত এক দশকে ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এই যাত্রায় প্রাণ হারিয়েছেন। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর রোহিঙ্গাদের জন্য একটি চিহ্নহীন কবরস্থানে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র বলেন মানব পাচার, শোষণ ও চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের এ যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গারা সাধারণত বাংলাদেশের কক্সবাজারের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলো থেকে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাখাইনে বর্তমানে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র লড়াই অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই তাদের। ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি করা এবং মানব পাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত সাগরপথে এ মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত