পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রচারণায় সম্প্রতি ব্যস্ত সময় পার করছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা; যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির নেতারা যখন রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে মাঠ গরম করছেন, সে সময়ই ভারতের লোকসভায় বড় ধাক্কা খেয়েছে মোদি-অমিতরা। নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিতর্কিত এক সংশোধনী বিল ভারতের লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। গত শুক্রবার লোকসভায় বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পড়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে একে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে- বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। কিন্তু বিলটি পাসের জন্য ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল, যা উপস্থিত ৫২৮ জনের দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে ৫৪ ভোটের ঘাটতিতে বিলটি পাস হয়নি। বিলটি ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিলটির পরাজয়ের পর সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিলটি খারিজ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। বিলটি পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং এখনো একই অবস্থান বজায় রেখেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার বক্তব্যে সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিলটির সঙ্গে নারী সংরক্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলের একটি প্রচেষ্টা। রাহুল গান্ধী আরও বলেন দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা একটি ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিলটি বাতিল হওয়ায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।