কনকচাঁপা, রিজিয়া পারভীন, বেবী নাজনীন ও দিঠি আনোয়ারের পর এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন টিভি অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। এরই মধ্যে তিনি কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। নামের মতো রাজনীতিতে জড়িয়েও চমক দেখালেন তিনি। আগামীতে আরও নতুন নতুন চমকের আশ^াস দিলেন এই অভিনেত্রী। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব তারকা ছিলেন জনগণের পক্ষে, দেশের পক্ষে। যারা কথা বলেছেন, ফ্যাসিস্টের নির্মমতার বিরুদ্ধে, তাদের মধ্যে অন্যতম চমক। চরম উত্তাল সেই দিনগুলোতে ছাত্র-জনতার এমন অকুতোভয় সংগ্রামের মধ্যেও দেখা গেছে তাকে।
জানা গেছে, চমকের শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়া। জেলার খোকসা উপজেলা থেকে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তিনি। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন চমক। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই, বিশেষ করে নারীদের জন্য। সে জন্য একটা প্ল্যাটফরম দরকার ছিল। আমার মনে হয়েছে, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।’ তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছে তার। দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছেন তিনি। চমক বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী।’
অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, চমকের ব্যাপারে ইতিবাচক বিএনপি। তবে এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে নারাজ এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘দল যে সিদ্ধান্ত নিক, সেটাই আমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করব।’ মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকার শেষে সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘নতুন জার্নি শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। শিগগিরই বিস্তারিত জানাব। পাশে থেকো, দোয়ায় রেখো।’ অনুরাগী ও অনুসারীদের বিশ্বাস, বিএনপি থেকে এমপি হওয়ার সবুজ সংকেত পেয়ে গেছেন চমক!
নিজের এলাকা কুষ্টিয়াকে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা কালচারাল হাব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। লালন মেলাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে চমক বলেন, ‘কুষ্টিয়া একটি কালচারাল হাব, যেখানে লালন মেলা হয় এবং মানুষ সাম্যের গান গায়। আমি গ্লোবালি লালন মেলাকে এমনভাবে রিপ্রেজেন্ট করতে চাই, যেন পৃথিবীর মানুষ অপেক্ষা করবে কবে লালন মেলা হবে।’
আন্তর্জাতিক মিউজিক ফেস্টিভালগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘পুরো পৃথিবীতে যেমন নানা উৎসব হয়, লালনটাও ওরকম হতে পারে। আমি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করাসহ এবং জীবনকে দেশের মানুষের জন্য মিনিংফুলি কন্ট্রিবিউট করতে চাই। এটি আমার জন্য একটা ভালো প্ল্যাটফরম। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সুন্দর হেরিটেজ জায়গাগুলোকে আমি আরও রিপ্রেজেন্ট করতে চাই এবং কালচারাল হাবটাকে আরও বেশি পেট্রোনাইজ করতে চাই। আমার মনে হয় পটেনশিয়াল এবং এক্সিকিউশনাল জায়গাতে একটা অ্যালাইনমেন্ট দরকার। কুষ্টিয়াতে কাঠামোগতভাবে অনেক পরিবর্তন দরকার, সেগুলোতে আমি কাজ করতে চাই।’
