আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষে দেশ এখন বিএনপি সরকারের শাসনামলে। ক্ষমতার এই পালাবদলে গত কয়েক বছরে তিনটি ভিন্ন সরকার এলেও রাজধানীর পূর্বাচলে প্রস্তাবিত ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভাগ্যে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে এবার সব অনিশ্চয়তা আর ‘নাটকীয়তার’ অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
গতকাল শনিবার বৈশাখের তপ্ত দুপুরে পূর্বাচল স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালসহ বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই মেগা প্রজেক্টের কাজ আর ঝুলিয়ে রাখা হবে না।
আমিনুল হক বলেন, ‘পূর্বাচলে ক্রিকেট স্টেডিয়াম তো হবেই, ইনশাআল্লাহ। এর পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন খেলার জন্য একটি ‘মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ ও ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রাথমিক ধাপে ক্রিকেট বোর্ড নিজেই এই কার্যক্রম শুরু করবে।’
গত পাঁচ বছর ধরে জমি বরাদ্দ ও পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই প্রকল্প। বিগত সরকারের সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল ক্রিকেটের মূল ভেন্যুর পাশাপাশি আরও পাঁচটি ফেডারেশনকে এখানে জায়গা দেওয়া হবে। বর্তমান সরকারও সেই পরিকল্পনা বহাল রাখছে। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘সরকারি পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, আমরা পরিকল্পনামাফিক খুব দ্রুত সেই পদক্ষেপগুলো নেব।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বাইরে জুডো, কারাতে, উশু, স্নুকার ও ভারোত্তোলন ফেডারেশনের জন্য এখানে জায়গার ব্যবস্থা থাকবে। আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকে বিসিবি সচ্ছল হওয়ায় অন্যান্য খেলাকে সুযোগ করে দেওয়া নিজেদের দায়িত্ব মনে করছেন তিনি। তামিম বলেন, ‘পুরো ডিজাইনটি আমরা মন্ত্রীকে প্রেজেন্ট করেছি। কিছু পরিবর্তন জরুরি, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত কাজ শুরু করা। এখানে সরকারের বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, আমরা সবাই মিলে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’
পরিদর্শন আর আশ্বাসের বৃত্তে আটকে থাকা পূর্বাচল স্টেডিয়াম এবার সত্যিই আলোর মুখ দেখে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
