বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন লিওনেল মেসি কি এবার পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন? এমনই দাবি করেছে ‘জিও নিউজ’। পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ) এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুটবল উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের ফুটবল কর্তারা সম্প্রতি একটি অনলাইন সভায় মিলিত হন। সেখানে শুধু প্রীতি ম্যাচই নয়, কোচিং ডেভেলপমেন্ট এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত পাকিস্তানের মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পিএফএফ সভাপতি সৈয়দ মহসিন গিলানি এবং এএফএর মার্কেটিং ডিরেক্টর ফ্রান্সিসকো লেম্মি। রাষ্ট্রদূত হাসান আফজাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাকে ‘ফলপ্রসূ এবং ভবিষ্যৎমুখী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আলোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল, পাকিস্তানের ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করতে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ কোচদের নিয়ে যাওয়া। সেইসঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
এক সমর্থক লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলা পাকিস্তানের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ হবে। এতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।’
তবে অনেকে বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবেও দেখছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ২০৪টি দেশের মধ্যে ২০২ নম্বরে থাকা পাকিস্তানের শক্তিমত্তা নিয়ে ট্রল করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘ম্যাচটি হলে আর্জেন্টিনা হয়তো ২০-০ গোলে জিতবে!’
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ২০২৬ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের এই আলোচনা পাকিস্তানের ফুটবলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ফুটবলের ইতিহাসে বড় সাফল্য বলতে ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালের দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জয়। এখন পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর যদি সত্যিই নীল-সাদা জার্সিধারীরা ইসলামাবাদ বা লাহোরে খেলতে আসে, তবে সেটি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
