বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল তা আমরা জানি। জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধা আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামায়াত করতেন না, তারা জামায়াতে পরে গেছেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ তথ্য জানতে চান।
আবুল হোসেন খান বলেন, ‘রাজনীতি করি প্রায় ৫৪ বছর। বিএনপি করি ৩৪ বছর। ৭১ মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। জুলাই আন্দোলনে যে সমস্ত মানুষের যে ভূমিকা ছিল এই ভূমিকা নিয়ে একটি সত্য ইতিহাস আমাদের জাতি কিন্তু এখনও জানে না। আমাদের যে প্রজন্ম এই প্রজন্ম একটা ভুল অসত্য ইতিহাস নিয়ে তারা বড় হয়েছে। আজকে এই সংসদে আমি প্রধানমন্ত্রীসহ যারা উপস্থিত আছেন সবার পক্ষ থেকে আমার একটা অনুরোধ, সেটা হলো আগামী প্রজন্ম একটা সত্য ইতিহাস জানতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতি দল তো বেশি ছিল না, ছিল আওয়ামী লীগ ছিল জামায়াতে ইসলাম ছিল স্বাধীনতার পরে জাসদ নামে একটি দলও ছিল আর ছোটখাটো যে দলগুলো ছিল সে দলগুলো এখন বিলীন হয়ে গেছে। জাসদ বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, কোন জাতীয় দলের কী ভূমিকা আমরা জানি এবং ব্যক্তিগতভাবে এই ৭০ সালের পর থেকে ৭১ এর পর থেকে বাংলাদেশে এমন কোনও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে নাই যেখানে একজন কর্মী হিসেবে আমি রাজপথে ছিলাম না। সেই ৭৩ থেকেই এই জেল খাটতে খাটতেই এই আন্দোলনে সর্বশেষ তিনবার তিনবার জেলে গিয়েছি।
আবুল হোসেন খান বলেন, আমার বক্তব্য হল আমরা জুলাই আন্দোলনের সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছি। ইতোমধ্যে বিলও পাস হয়েছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি— যারা শহীদ হয়েছেন তারা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু ৭১ মুক্তিযুদ্ধে কত লোক শহীদ হয়েছেন এই তালিকাটা আমাদের কাছে নাই। আমি অনুগ্রহ করে এই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের দলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, অনুগ্রহ করে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কত লোক শহীদ হয়েছেন— একটা তালিকা করেন। সেই ৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল এই ভূমিকা আমাদের জামায়াত ইসলামীর উনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র ছিলেন। উনি তখন জামায়াত করতেন না, জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা আছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামাত করতেন না। তারা জামায়াতে পরে গেছেন।
