দেশ চরম জ্বালানি সংকটে। গ্যাস সংকটে দেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ফলে রপ্তানিতে হ্রাস। বিগত কয়েক মাসে তৈরি পোশাক শিল্প উৎপাদনে কোনো সম্প্রসারণ ঘটেনি। বিগত কয়েক বছরে হয়নি, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে দেশের শিল্পে সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্ব সংকটে পড়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের কারণে, বাংলাদেশের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর উচ্চনির্ভরতার কারণে এ প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ নতুন ধরনের বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮২৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশই গেছে মার্কিন বাজারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি খাত অনেকটাই বড় বাজারগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে উঠতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই জানুয়ারিতে দেশ থেকে ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ডব্লিউইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য বড় বাজারে বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন হলে এ দেশের রপ্তানি আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কাঠামোয় সাম্প্রতিক পরিবর্তনে দেশের রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, শ্রমমান তদারকি জোরদার এবং পণ্য আমদানিতে সম্ভাব্য শুল্ক পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপে রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকে গড়ে প্রায় ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান গেইল মার্টিন ডব্লিউইজেকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। আর্থিক খাত শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সহর্কীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে সাহসী ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ঘনিয়ে এসেছে, যদিও নতুন সরকার তা পেছানোর আবেদন করেছে। কিন্তু উত্তরণ একসময় হবেই। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ নতুন ধরনের বাণিজ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ডব্লিউইজের মতে, বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ও শুল্ক রেয়াতের কাঠামো পরিবর্তনের কারণে বড় রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে। তাই বাজারে টিকে থাকার জন্য শ্রমমান, পরিবেশগত ও পণ্যের গুণগতমান কঠোরভাবে বজায় রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনে ঝুঁকি কমাতে কৌশল বদলানোর পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ শিল্প ও হালকা প্রকৌশল খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পুনঃ আলোচনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্ধিতিশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্যের মানোন্নয়ন এসব উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ডব্লিউইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধির মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও, অবকাঠামোগত ঘাটতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে যেমন উৎপাদনশীলতা কমছে, তেমনি বাণিজ্য ব্যয়ও বাড়ছে। ডব্লিউইজে পরিবর্তন ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, জ্বালানি খাত এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে জট ও পুরনো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনার কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। এতে বাণিজ্য ব্যয় বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সীমাবদ্ধতা দূর না হলে রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যেমন বিনিয়োগের সুযোগ আছে, তেমনি ঝুঁকিও আছে। দেশের ইস্পাত খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম। রড উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ট্রাকের জন্য প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায়, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘সম্প্রতি ডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। যে কারণে আমাদের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায়, চট্টগ্রামের বিএসআরএম গ্রুপের মতো অন্য শিল্পকারখানাও একই সংকটে ভুগছে। শিল্পকারখানার মালিকরা বলছেন, ঈদের লম্বা ছুটির পর শিল্পকারখানা পুরোদমে খুলেছে। ফলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে তেলের চাহিদা বেড়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। তাই তেল সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে, প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ তেল-গ্যাস আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে দেশে ডিজেল আসার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। একটি জাহাজ পথে রয়েছে। বাকি ৭টির সূচি এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। গত শনিবার ডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। রবিবার কোনো তেল পাইনি, যার কারণে আমাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় রোজার ঈদের আগে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তারপর থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। কোরবানি ঈদের আগে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়। তবে ডিপো থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় অনেক পাম্প গ্রাহকদের তেল দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে তেল মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পণ্য উৎপাদনে কিছু কারখানায় ডিজেল জেনারেটর ব্যবহৃত হয়। পণ্য পরিবহনে তাদের সাড়ে তিন হাজার ট্রাক রয়েছে। সব মিলিয়ে শিল্পগোষ্ঠীটির প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, এর ৬০ শতাংশ ডিপো থেকে পাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় আমাদের সব ট্রাক চলতে পারছে না। তাতে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। তেল সংকটে কিছু কারখানায় উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটছে।’ হস্তশিল্প রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের কারখানা গাজীপুরের পুবাইলে।
বিদ্যুৎ দিয়ে কারখানা চললেও, লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালাতে ডিজেলের দরকার হয়। গত দুই দিনে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও ডিজেল কিনতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। পিভিসি পাইপ, ফিটিংস, প্লাস্টিকের দরজা, আসবাব ও গৃহস্থালি পণ্যের এনপলি গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাঁচামাল আমদানি সংকটে পড়েছে। এতে করে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে শিল্পগ্রুপটি। এমনকি তেলের অভাবে তাদের পণ্য সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা পুরোদমে চালু। কারখানাগুলোর উৎপাদন বিদ্যুতে চললেও লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেল জেনারেটর চালাতে হয়। তবে ঈদের পর পাম্প থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানা তেল পাচ্ছে না বলে জানালেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। কারখানাগুলোকে তাদের জেনারেটরের ক্ষমতা এবং দিনে চার ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে কত লিটার তেল লাগবে, তার একটি চাহিদাপত্র চেয়েছে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘পাম্প থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান তেল পাচ্ছে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে না। ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা সদস্যদের কাছ থেকে তাদের চাহিদা আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ করছি।’ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে, সরকারের এমন অবস্থান থেকে সরে এসে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা ও সেবা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন। যুদ্ধকালে সীমিত জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।’ এ ছাড়া ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা ও জোগান ডিজিটাল করার ওপর জোর দেন তিনি।
জরুরি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গ্রহণ করা সরকারের অন্যতম কাজ। দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান জরুরি। তুলা থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশের জ্বালানি খাতে অন্যতম বিদ্যুৎ খাত গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে, শিল্প খাতের উৎপাদন হ্রাস বা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি নতুন সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ২. দেশের পেট্রোবাংলাকে সক্রিয় করতে হবে। নিজেদের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। আমাদের গভীর সমুদ্রে গ্যাস রয়েছে। তা উত্তোলন করতে হবে। ভারত ও মিয়ানমার সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে নিজেদের জ্বালানি শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে তা হচ্ছে না। ৩. দেশের জ্বালানির মজুদ কমপক্ষে তিন মাসের স্থলে উন্নীত করতে হবে। শিল্প আমদানির পথ গ্রহণ করতে হবে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি দ্রুত শুরু করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক বাণিজ্য অনেক বেশি বৃদ্ধি করা দরকার। ৪. দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। রাজপথে কোনো সমস্যার সমাধান নয়। সরকারকে কৌশলী হতে হবে। রাজপথে আন্দোলন আনার কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একদিকে জ্বালানি ও আর্থিক খাতের বড় সমস্যা অন্যদিকে রাজনৈতিক হট্টগোল দেশের অর্থনীতিকে বড়ই দুর্বল করে তুলবে। ইতিমধ্যে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কৃচ্ছ্র শুরু করেছে। অফিস, দোকানপাট সকাল ৯টা থেকে ৭টা পর্যন্ত করেছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সময় সংশোধন করেছে। মন্ত্রী, এমপি সরকারের কর্তাব্যক্তিরা কৃচ্ছ্র শুরু করেছেন। এসব ইতিবাচক। তবে দুর্নীতি ও অনিয়মকে শক্ত হাতে দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতি দেশের হৃদয় ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। তা বন্ধ না করতে পারলেও কমিয়ে আনার উদ্যোগ দৃশ্যমান হতে হবে। নিজকে সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। নিজ থেকে সংশোধন ও ভালো হওয়ার চর্চা শুরু করতে হবে। তাতে জ্বালানি সংকটের অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি সাবেক সহসভাপতি, এফবিসিসিআই