২৮০ কোচের তালিকায় পুরনোরাও

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

হামজা চৌধুরীদের কোচ হতে সারা দুনিয়া থেকে ২৮০ কোচ আবেদন করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। ২০ এপ্রিল ছিল আবেদনের শেষ দিন। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে অনেক কোচ আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাফুফে তাই একটি চার সদস্যের বিশেষ কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে সব সিভি যাচাই করে একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করতে। কোচদের সিভি নিয়ে বুধবার বিকেলে সভায় বসেছিল বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী ও নির্বাহী কমিটির তিন সদস্য ইকবাল হোসেন, ছাঈদ হাছান কানন এবং কামরুল হাসান হিলটনকে নিয়ে গড়া বিশেষ কমিটি।

জাতীয় দলের কোচ হতে চাওয়া দীর্ঘ তালিকায় এমন কিছু নাম আছে, যারা অতীতে বিভিন্ন মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। যাদের অন্যতম জেমি ডে, মারিও লেমস, ফ্যাবিও লোপেজ। আবার আব্দুল্লাহ আল মুতাইরির মতো দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হয়ে কাজ করা কোচও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ব্যর্থ জেমি ডে’র আবার আগ্রহ : আবারও জাতীয় দলের কোচ হতে চান হাভিয়ের কাবরেরার আগে চার বছরের বেশি সময় কাজ করা ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ করার পর গত চার বছর ইংল্যান্ডের চতুর্থ টায়ারের তিনটি ক্লাবে বিচ্ছিন্নভাবে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৭ মে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের অধীনে ২৯ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাফল্যের হার মাত্র ৩১.০৩ শতাংশ। জয় পেয়েছে ৯ ম্যাচে। ১৫ হারের বিপরীতে ড্র মাত্র পাঁচ ম্যাচে। টানা ব্যর্থতার কারণে চুক্তির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়নি। পরে দেশে ফিরে যান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। তার অধীনে বাংলাদেশ যুবদল অবশ্য ২০১৮ এশিয়াডের দ্বিতীয় রাউন্ডে নাম লিখিয়েছিল। তবে সাফ, এশিয়ান কাপ বাছাই ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দলের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। জেমি যখন দায়িত্ব নেন, বাংলাদেশ তখন র‌্যাংকিংয়ের ইতিহাসে সর্বনি¤œ ১৯৭তম অবস্থানে ছিল। সেখান থেকে অবশ্য খুব বেশি উন্নতি তিনি করতে পারেননি।

এসেছে মারিও লেমসের সিভিও : আবাহনীকে ষষ্ঠ লিগ শিরোপা জেতানো পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস খুব অল্প সময়ের জন্য জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বর শ্রীলংকায় চার জাতি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ডাগআউটে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেই আসরের পর আবার ফিরে যান আবাহনীর দায়িত্বে। লেমসের বাংলাদেশ অধ্যায় শুরু হয়েছিল জাতীয় দলের ফিটনেস কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে। পরে তিনি আবাহনীর হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন এবং টানা চার মৌসুম দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে আবাহনী দুটি লিগ শিরোপা জিতে নেয়। ২০২৩ সালে আবাহনীর দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছু দিন মুম্বাই সিটি এফসির সহকারী কোচের দায়িত্ব ছিলেন। গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ লিগের দল পার্সিজাপ জেপারার কোচের দায়িত্বে আছেন। এই প্রতিবেদককে তিনি অবশ্য বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহ না দেখানোর কথা বলেন। তবে বাফুফে সূত্র জানিয়েছে, একটি এজেন্সির মাধ্যমে লেমসের সিভি তাদের হাতে এসেছে।

বাফুফেকে গালমন্দ করা লোপেজও আগ্রহী : ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব চলাকালে মাত্র চার মাসের চুক্তিতে ইতালিয়ান ফ্যাবিও লোপেজকে দায়িত্ব দিয়েছিল বাফুফে। সিরি এ-র দল ফিওরেন্তিনার স্কাউট হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা দেখেই তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল কাজী সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কমিটি। তবে তার অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তিন ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। কিরগিজস্তানের কাছে ২-০ তে হারে শুরু। তাজিকরা তার দলকে হারায় ৫-০ ব্যবধানে। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারতে হয়। এরপর আর এই কোচকে রাখেনি বাফুফে। যাওয়ার আগে বাফুফের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া সমালোচনা করেছিলেন লোপেজ। বাফুফেকে গালমন্দ করা লোপেজও চাইছেন ফিরতে।

নেপাল, আফগানিস্তান ও শ্রীলংকার বাংলাদেশে চোখ মুতাইরির : একঝাঁক প্রবাসী ফুটবলার উড়িয়ে এনে জাতীয় দলের শক্তি বাড়িয়েছে শ্রীলংকা। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলংকা থাকবে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। এই দলটির দায়িত্বে আছেন কুয়েতি কোচ আব্দুল্লাহ আর মুতাইরি। ২০২১ সালে নেপালের দায়িত্ব নেন ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ। সে বছর প্রথমবারের মতো নেপালকে সাফের ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের দায়িত্ব নেন। তবে ছয় মাসের বেশি থাকতে পারেননি। ২০২৪ সালে তিনি শ্রীলংকার দায়িত্ব নেন। তার অধীনে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দলটি। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শ্রীলংকা ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স দেখায়। তবে গত জানুয়ারিতে সেই দায়িত্বও ছাড়েন তিনি। ৪৪ বছর বয়সী মুতাইরি এবার চান বাংলাদেশের কোচ হতে।

মোহামেডানের সাবেক ব্রিটিশ কোচ শন লিন, এএফসি প্রো-লাইসেন্সধারী দেশী অভিজ্ঞ কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও আছেন আগ্রহীর তালিকায়। মিন্টু একই সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট কোচ হতে চেয়েও আবেদন করেছেন। বিশেষ কমিটির সদস্য কানন, পুরনো কাউকে ফেরানোর চেয়ে নতুন এবং অভিজ্ঞ কাউকে বেঁছে নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। তার প্রথম পছন্দ দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের কোচরা। এই কমিটি একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করে দেবে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিকে। যারা মূলত চূড়ান্ত করবে হামজাদের পরবর্তী কোচ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত