এক দশকে মহাপতন লেস্টার সিটির

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ এএম

অবনমন এড়ানোর আশা টিকিয়ে রাখতে জিততেই হতো লেস্টার সিটিকে। ৬২ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে সেই লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছিই ছিলেন হামজা চৌধুরীরা। কিন্তু ৬৩ মিনিটে হাল সিটির সমতাসূচক গোলে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে টিকে থাকতে পারেনি লেস্টার। মঙ্গলবার হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করায় লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত হয় লেস্টারের।

১০ বছর আগেও মৌসুমের এই পর্যায়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের প্রহর গুনছিল লেস্টার। কিন্তু আগামী মৌসুমে খেলতে হবে তৃতীয় বিভাগে যেটা লেস্টারের ১৪২ বছরের ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। এতে একটি চক্রপূরণও হলো লেস্টারের, যদিও সেটা অনাকাক্সিক্ষত। ২০১৬ সালে ৫০০০-১ বাজিতে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দেওয়ার ৭ বছর আগে লিগ ওয়ান থেকে ফিরেছিল ক্লাবটি। আর এবার সেই লেস্টারই টানা দ্বিতীয় দফা অবনমনের শিকার হলো। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে (দ্বিতীয় বিভাগ) নেমে যাওয়ার পর এবার আরও এক ধাপ অবনমন হলো লেস্টারের। ২০২২ সালে প্রিমিয়ার লিগে অষ্টম হওয়া এবং কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠার পর লেস্টারের তৎকালীন কোচ ব্রেন্ডন রজার্স সতর্ক করেছিলেন, ক্লাবকে এখন তাদের প্রত্যাশার পারদ কমাতে হবে। ক্লাবটির মালিকানাধীন ডিউটি-ফ্রি রিটেইলার প্রতিষ্ঠান ‘কিং পাওয়ার’-এর ব্যবসায় কোভিডের বড় প্রভাব পড়েছিল সেই সময়।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ২০২২-২৩ মৌসুমের শুরুতে টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পর রজার্স বলেছিলেন, লেস্টারের এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ পয়েন্ট অর্জন করা। লেস্টার সেই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছেও গিয়েছিল। এর আগে ২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই মৌসুমে শেষ দিনে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা। রজার্সের অধীনেই টমাস টুখেলের চেলসিকে হারিয়ে তারা এফএ কাপ জিতেছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে দ্রুতই ক্লাবটির পতন শুরু হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিলে রজার্সকে বরখাস্ত করা হয়। ক্লাবটি তখন প্রিমিয়ার লিগের অবনমন অঞ্চলে (শেষ তিনে)। অ্যাস্টন ভিলা ও নরউইচের সাবেক কোচ ডিন স্মিথকে দায়িত্ব দিয়েও সেবার রক্ষা হয়নি।

অবনমন লেস্টারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২ কোটি ৮ লাখ পাউন্ড বেশি লোকসান করায় আগেই তাদের ৬ পয়েন্ট কাটা হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে লেস্টারের লোকসানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ পাউন্ডে। চুক্তি অনুযায়ী অবনমনের কারণে খেলোয়াড়দের বেতন কিছুটা কমলেও চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলারদের তালিকায় ছিলেন লেস্টারের বেশ কয়েকজন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ‘ম্যাককুয়ারি’ থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা। গত জানুয়ারিতে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রাপ্য সব ‘প্যারাশুট পেমেন্ট’ও (অবনমন হওয়া ক্লাবের জন্য বিশেষ বরাদ্দ) ঋণের বিপরীতে অগ্রিম তুলে নিয়েছে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত