১ আসামি রিমান্ডে, বিচার পাওয়ার আশা পরিবারের

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর  সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম হাফিজুর রহমান (৫২)। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে অবসরে যান তিনি। তনু হত্যাকা-ের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন তিনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার  বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল মামলার তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ক্রস-ম্যাচের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানও রয়েছেন।

তনুর ভাই মো. রুবেল বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের আদালতে থাকতে বলেছিলেন। আমরা এসে একজনের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। ১০ বছর পর হলেও আমরা আশা করছি, বোনের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

আদালতে উপস্থিত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তখন জানা যাযনি, সৈনিক জাহিদের নামটিই বারবার আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। আমরা খুব খুশি। এক আসামিকে গ্রেপ্তার হতে দেখলাম, কাঠগড়ায়ও দেখলাম। সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আমি যেমন মেয়ে হত্যার বিচার চাই, দেশবাসীও চায়।’ ইয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আত্মহত্যা করব।’

তনুর মা বলেন, ‘১০ বছর পর এক আসামি ধরা পড়েছে। আশা করছি এবার বিচারটা পাওয়া যাবে। তারা আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে, আমি চাই তাদেরও তেমন শাস্তি হোক। তাদের ফাঁসি চাই আমি। দেশবাসী যেন জানতে পারে, তনু হত্যায় খুনিদের ফাঁসি হয়েছে।’

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।  পরের দিন তার বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় একাধিক ব্যক্তির ডিএনএ থাকার তথ্য জানায়। পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত চলতে থাকে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার এক আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত