বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভার্চুয়াল আদালত

সমস্যা দেখছেন না অ্যাটর্নি জেনারেল, কর্মসূচির ঘোষণা আইনজীবীদের 

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহের দুইদিন ভার্চুয়াল আদালতে বিচারকাজ পরিচালনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন একদল আইনজীবী। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিম কোর্ট বার) ভবনের পাশে আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

আন্দোলনরত আইনজীবীরা বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে কালো পতাকা মিছিলসহ লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ২১ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছেন, ভার্চুয়াল আদালতে কোনো সমস্যা দেখছেন না তিনি। 

গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০’ এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক জারি করা প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সপ্তাহের দুইদিন বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এবং হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে। এর ধারাবিহকতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে এ পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

দুপুরে এর বিরুদ্ধে একদল আইনজীবী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা ভার্চুয়াল আদালতের সিদ্ধান্তকে অবিবেচনাপসূত উল্লেখ করে বলেন, এতে বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে।

সমাবেশে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, এটা (ভার্চূয়াল কোর্ট) ভালো উদ্দেশ্যে করেছিলেন। কিন্তু এটা ফেইল করেছে। বুমেরাং হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদ সবচেয়ে ব্যয়বহুল, সচিবালয়ও  চলছে। সরকার থেকে বলা হচ্ছে কোনো জ্বালানি সঙ্কট নেই। আমরা প্রত্যাশা করি এই সিদ্ধান্ত (ভার্চুয়াল কোর্ট) প্রত্যাহার করা হবে। অন্যথায় কালো পতাকা মিছিলসহ লাগার কর্মসূটি ঘোষণা করা হবে।

অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান বলেন, মামলার শুনানির সময় আমাদের অনেক বই, রেফারেন্স ও তথ্য উপাত্তা লাগে। তাই শুনানি কোনোভাবেই ভার্চুয়ালি করা সম্ভব নয়। কেননা গুরুত্বরপূর্ণ অনেক মামলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভার্চুয়াল কোর্টে সমস্যা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

ভার্চুয়াল আদালতে কোনো সমস্যা দেখছেন না রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, এ পদ্ধতিতে অন্যান্য দিনের চেয়ে মামলার কার্যক্রমে গতি এসেছে। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ  কথা বলেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত পরিচালনাটা সম্পূর্ণভাবে  প্রধান বিচারপতি সুনির্দিষ্ট করে থাকেন। তিনি (প্রধান বিচারপতি) আদালতের পদ্ধতি, বিচারকদের দায়িত্ব বণ্টন থেকে শুরু করে সবকিছু করে। উনি মনে করেছেন সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল কোর্ট করলে জ্বালানির ওপর কিছুটা চাপ কমবে।

তিনি বলেন, আমি এখনও কোনো সমস্যা বোধ করিনি। আর এটা আমাদের জন্য নতুন নয়। করোনাকালীন সময়ে আমরা ভার্চুয়াল কোর্টে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এ ব্যবস্থা সাময়িক। এতে যদি কোনো অসুবিধা হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করব। আবার যদি এটাতে অভ্যস্ত হয়ে যাই, সেটাও বলব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত