কাক্সিক্ষত প্রাণবন্ত সংসদ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি সৌন্দর্য আছে। আমাদের দেশে সেটি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু দেশে চলমান জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকটসহ যেকোনো সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত। গত বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ৬৮ বিধিতে আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এ কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা, জ্বালানিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। পাম্পগুলোতে চলছে তীব্র সংকট। গাড়ির দীর্ঘলাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করেও তেল পাচ্ছে না গ্রাহকরা। যে কারণে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকার তেল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছে না। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করছে ও বিভ্রান্তিকর দাবি জানাচ্ছে। সরকারের এই বাস্তবতাবর্জিত দাবি পরিস্থিতিকে প্রকট করে তুলছে, তা অস্বীকার করার জো নেই।’ জ্বালানি তেলের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাকে ‘সংকট’ বলতে রাজি নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আমি এটাকে সংকট বলতে চাই না।’

জাতীয় সংসদ মূলত মতামত আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্মুখ দৃষ্টির পথ খুলে দেয়। সেক্ষেত্রে সংসদীয় গণতন্ত্রে সম্ভবত প্রথমবারের মতো সরকার ও সংসদ নেতা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেন। বিরোধী দলের মতামতকে সরকার গ্রহণ করায় সংসদীয় গণতন্ত্রে নব-উদ্বোধন হলো বলে চিহ্নিত করা যায়। অতীতে শুধু সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে বিরোধীপক্ষকে কুপোকাত করার মানসিকতা নিয়ে কাজ হতো। বিরোধী দলের মতামত যুক্তি ও বিবেচনাবোধ ভালো হলেও, তা নাকচ করা ছিল সংসদীয় রাজনীতির সংস্কৃতি। সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যখন উভয়পক্ষ মতামতকে প্রাধান্য দেয়, কিন্তু চাপিয়ে দেয় না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রচলিত রীতি, এই প্রথম তারেক রহমান তা ভেঙে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

এমন অর্জন নবীন গণতন্ত্রের সাংস্কৃতিক পরিচর্যা বলে আমরা মনে করি। এই বিবেচনাবোধ প্রত্যেক সংসদ সদস্যের মধ্যে জেগে উঠুক বিরোধীপক্ষ তাদের শত্রু নয়, তারা ভিন্ন মত ও পথের অধিকারী। তাদের যৌক্তিক প্রস্তাবকে জাতির স্বার্থে গ্রাহ্য করা উচিত। সংসদ নেতা বুধবারের আলোচনায় নান্দীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে লালন করতে হবে সংসদীয় রাজনীতির শুদ্ধতম রীতিনীতি ও সৌন্দর্য। যে নবীন গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে, তা তখনই দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার মসৃণ সড়ক পাবে। না হলে, মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। জ্বালানি সংকটকে অবহেলা না করে, জ্বালানি নিয়ে হাহাকার বন্ধ করতে হবে। আমরা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শিতাকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, তিনি যা রচনা করতে শুরু করেছেন, তা যেন উত্তরণের সিঁড়ি পায়। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম সেই গণতান্ত্রিক ধাপ পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত