অবিশ্বাস্য

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

রহস্যভরা ‘বগ বডি’

গলায় দড়ির ফাঁস। কুঁকড়ে গেছে শরীরের চামড়া। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ঘোর কৃষ্ণবর্ণ রঙ। গোটা ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া গেছে, এ রকম মৃতদেহ। কারও বয়স পাঁচশ, কেউ আবার পেরিয়েছেন হাজার বা দু’হাজারের গণ্ডি। তবু এতটুকু পচন ধরেনি এসব মৃতদেহে। অথচ এসব দেহ যে মমির মতো সংরক্ষণ করেছিল প্রাচীন মানুষ। ‘বগ বডি’ নামে পরিচিত এসব রহস্যময় মৃতদেহ। ‘পিট’ নামের এক বিশেষ উদ্ভিদ পাওয়া যায় ইউরোপের জলাভূমিতে।  সর্বপ্রথম বগ বডি আবিষ্কৃত হয়েছিল জার্মানিতে। তারপর ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস,  বেলজিয়াম, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে পাওয়া গেছে বগ বডি। কিন্তু কারা সমাধিস্থ করেছিল এসব মৃতদেহ? হাজার হাজার বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও অক্ষত অবস্থায় সেসব আজও কীভাবে সংরক্ষিত রয়েছে? গবেষকদের মতে, যেসব জলাভূমিতে ‘পিট’ পাওয়া যায়, সেখানকার জলের অমøতা সাধারণ জলের থেকে অনেক বেশি। ফলে সেই মানবদেহ পচনের জন্য দায়ী জীবাণু-ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি সেখানে নেই বললেই চলে। এমন অমøতার কারণেই কুঁকড়ে কালো হয়ে যায় দেহের চামড়া। তবে সম্পূর্ণ দেহ পচে যায় না। শুধু অমøতাই নয়, পিট বগে আরও একাধিক জৈব যৌগের উপস্থিতিও রয়েছে, এমন সংরক্ষণের নেপথ্যে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন বগ বডির বয়স, প্রায় ১০ হাজার বছরের বেশি। অর্থাৎ মধ্যপ্রস্তর যুগের মৃতদেহ অক্ষত রয়েছে এখনো। অ্যান্টিকুইটি জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ইউরোপ মহাদেশের ২৬৬টি অঞ্চল থেকে পাওয়া গেছে সহস্রাধিক বগ বডি। তবে এর মধ্যে খুব কম সংখ্যক দেহকেই বিশ্লেষণ করে দেখার সুযোগ পেয়েছেন গবেষকরা। কারণ অন্যগুলোর ক্ষেত্রে শরীরের রাসায়নিক গঠন অমøতার কারণে আমূলভাবে বদলে যাওয়ায় ডিএনএ কিংবা অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। আর সেই কারণেই বোধ হয় সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বেড়ে চলেছে বগ বডিদের প্রতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত