২০৩০ সালে শতভাগ ম্যালেরিয়ামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। তবে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কমে যাওয়ার বদলে রাঙ্গামাটিতে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। টানা আট বছর এই রোগে মৃত্যুহীন থাকার পর গত বছর দুটি শিশু মারা গেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুহার আবারও বাড়ায় পাহাড়ে পুনরায় ম্যালেরিয়াভীতি সঞ্চার করছে। রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী চার উপজেলায় এই রোগের প্রকোপ বেশি, যা পুরো জেলার ৮০ শতাংশের বেশি বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী দুই দেশের মানুষের মেলামেশা, গভীর অরণ্যে বসবাস, জুমচাষসহ অসচেতনতার কারণে কোনোভাবেই ম্যালেরিয়া কমানো যাচ্ছে না।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটা সময় রাঙ্গামাটিতে অ্যানোফেলিস মশার কামড়ে প্রচুর ম্যালেরিয়া রোগী পাওয়া গেলেও ২০১৬ সালের পর থেকে সেই ধারা কিছুটা কমতে থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সচেতনতার কারণে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৬ সালে জেলায় ম্যালেরিয়া-আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ৯ হাজার ৬২৪ জন। পরের বছর ২০১৭ সালে এই হার কিছুটা কমে ৮ হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়ায়। ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে ২০২০ সালে এই রোগে আক্রান্তে সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৯০ জন। এই সময়ে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না।
তবে পরবর্তী বছর ২০২১ সালে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৫৫৪ জনে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২১৯ জনে। ২০২৩ সালে আরও বেড়ে ৪ হাজার ৭১৩ জনে উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৭১ জনে। গত বছর ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এ সময়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা না ঘটলেও কেবল ২০২৫ সালে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, রাঙ্গামাটিতে ১০ উপজেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী চারটি উপজেলায় মূলত ম্যালেরিয়া রোগের হটস্পট। ঘন জঙ্গল এবং সীমান্তের ওপার থেকে ম্যালেরিয়া রোগবহনকারী মানুষের যাতায়াতের কারণে এসব উপজেলায় রোগীর সংখ্যা অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বেশি।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাঙ্গামাটিতে ৩ হাজার ৬১৪ জন আক্রান্তের মধ্যে জুরাছড়িতে ১১৬৪ জন, বাঘাইছড়িতে ৬০৬ জন, বিলাইছড়িতে ৬৭৫ ও বরকলে ৫০৬ জন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় ৮৩ শতাংশ এই চার উপজেলায় আক্রান্ত হচ্ছে। এসব উপজেলার সীমান্ত পাশর্^বর্তী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত। তবে গত বছর রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় ম্যালেরিয়ায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অমিত দে বলেন, রাজস্থলীতে গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত সড়কের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের বেশিরভাগই বাঙালি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ‘রাঙ্গামাটিতে যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তার মধ্যে চারটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে জুরাছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে।