মহান মে দিবস উপলক্ষে আগামী ১ মে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিশাল শ্রমিক সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এ সমাবেশে অন্তত আড়াই লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা মহানগরে জনসংখ্যা দুই কোটি ৫৩ লাখের বেশি। এই জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক বা এক কোটি ২৬ লাখের বেশি মানুষ শ্রমজীবী-কর্মজীবী। কিন্তু ঢাকা শহরের প্রায় এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি (শতকরা এক ভাগ) শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষকে আমরা এখনো সংগঠিত করতে পারিনি। তারপর আমাদের সামনে আরও কত কাজ? আমরা যদি আরও ১ শতাংশ লোককে সংগঠিত করতে পারি, তাহলে আড়াই লাখ লোক হবে। ৫ শতাংশ সংগঠিত করতে পারলে প্রায় সাত লাখ লোক হবে। শ্রমিক আন্দোলনের সামনে সম্ভাবনা অনেক বেশি।
মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংগঠনের এখন যতজন শ্রমিক আমাদের আছে, আগামী এক বছরে আমরা আরও অন্তত ততজন শ্রমিককে সংগঠিত করব। মে দিবসে শ্রমিক দলের সমাবেশে আড়াই লাখ লোক থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সমাবেশে যে পরিমাণ জনসংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, এই জনসংখ্যা যথেষ্ট। শুধু ঢাকা মহানগর নয়, আশপাশের শ্রমিক আন্দোলনের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। আমরা আশা করছি, একটা বিশাল সমাবেশ।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ হবে। বেলা আড়াইটায় এ সমাবেশ শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত থাকবেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে শ্রমজীবী মানুষের জন্য বেশি ভাবে। অনেক কিছু করতে চায়। কতটুকু পারবে তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। কারণ এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এটা তো প্রত্যাশিত ছিল না। সরকারের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যুদ্ধ। এ জন্য আমাদের বহু উন্নয়ন প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও বিঘিœত-বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কাজ একটু বিলম্বিত হতে পারে।
ক্ষমতার আগে ও পরে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে অবস্থানের কোনো হেরফের হবে না উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আগে আমাদের যেসব দাবি ছিল, তার মধ্যে যা পূরণ হয়নি তা সবই আমাদের এবারেরও দাবি। ‘নো ম্যাটার’ যে বিএনপি ক্ষমতায় আছে। শ্রমজীবী মানুষের নায্য দাবি থেকে আমরা সরে যাব না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভুইয়া ও সদস্যসচিব বদরুল আলম সবুজ প্রমুখ।
