ক্যারিয়ারের এক যুগে তুষি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ এএম

পুরো নাম নাজিফা আনজুম তুষি হলেও দর্শক মহলে কেবল নাজিফা তুষি নামেই পরিচিত। দেশের গ্ল্যামার জগতের তরুণ প্রজন্মের আলোচিত মডেল-অভিনেত্রীদের তিনি। অভিনয়, মডেলিং ও উপস্থাপনা  তিন ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে চলছেন তিনি। দেখতে দেখতে ক্যারিয়ারের এক যুগে পা দিয়েছেন তিনি। শুরু থেকেই চেনা পথের বাইরে হাঁটার সাহস দেখিয়েছেন তুষি, আর সেই কারণেই ধীরে হলেও শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকদের মনে। আজ থেকে ১২ বছর আগে ২০১৪ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার-২০১৪-এ প্রথম রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু তার। এরপর ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও বড়পর্দায় অভিষেক হয় ২০১৬ সালে ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে না পারলেও হতাশ হননি তিনি। বরং সময় নিয়েছেন, নিজেকে পস্তুত করেছেন আরও পরিণতভাবে ফিরে আসার জন্য।

দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতি শেষে ২০২২ সালে ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন তুষি। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়ায়। আর এই সিনেমাতেই তুষির অভিনয় তাকে নতুন করে পরিচিতি এনে দেয়। একজন সম্ভাবনাময় ও দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে। এরপর কিছুটা বিরতি থাকলেও সম্প্রতি আবারও সরব হয়েছেন তিনি। রায়হান রাফীর পরিচালনায় এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের নজর কাড়েন তুষি। ছবিটি মুক্তির পর তার অভিনয় নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি যোগ করেছে।

রোজার ঈদের রেশ কাটার আগেই এবার কোরবানি ঈদের অপেক্ষা। বর্তমানে তার সবচেয়ে আলোচিত কাজ ‘রইদ’ সিনেমার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তুষি। রইদের মাধ্যমে আবার মেজবাউর রহমান সুমনের সিনেমার নায়িকা হলেন তিনি। ইতিমধ্যে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ব খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরের ‘টাইগার কম্পিটিশন’ বিভাগে অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে রইদ, যা দেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি বড় অর্জন। ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই মুভিটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে বেশ আলোচনা। 

শুরুতে ধীরগতি হলেও এখন একের পর এক ব্যতিক্রমী কাজ দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন এই মডেল-অভিনেত্রী সামনে কোরবানি ঈদে ‘রইদ’ মুক্তির মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি। দর্শকদের প্রত্যাশা, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুষি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন এবং নিজেকে প্রমাণ করবেন সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে। এই সিনেমায় তুষির চরিত্রটির কোনো নাম নেই। চিত্রনাট্য অনুয়ায়ী সবাই তাকে সাধুর বউ বলে ডাকবে। এই নামহীনতা চরিত্রটিকে আরও প্রতীকী করে তুলেছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। শুটিংয়ের সময় প্রয়োজনে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি, সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত কাপড় কিনে পরেছেন। বাস্তব জীবনের কাছাকাছি থাকতে নিজের আরামকে পুরোপুরি পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন।

তুষি জানান, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নিজের গায়ের রঙ তামাটে করতে কোনো কৃত্রিম মেকআপের আশ্রয় নেননি। বরং প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি শরীরে সরিষার তেল লাগিয়ে রোদে যেতাম। সরিষার তেল মেখে রোদে গেলে ত্বক খুব দ্রুত বার্ন হয়। ফলে গায়ের চামড়া পুড়ে একদম কয়লা হয়ে গিয়েছিল।’

মেকআপ কেন ব্যবহার করেননি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মেকআপ করলে দৌড়াদৌড়ি, বৃষ্টি বা ঘামলে তা সরে যাওয়ার ভয় থাকে। তাতে আমার আসল স্কিন বের হয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। তাই আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি। এই প্রথম আমি এমন একটি চরিত্রে কাজ করেছি যার কোনো নাম ছিল না। চরিত্রের সাইকোলজির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। এটি দেখতে সহজ মনে হলেও আদতে অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত