বর্তমান জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হয়রানি, ভয়ভীতি, সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলার পাশাপাশি শারীরিক হামলার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে ‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ (কিউআরএস) টিম। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস) এর সহায়তায় ‘সাপোর্টিং মিডিয়া ডিউরিং ট্রানজিশন পিরিয়ড ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে, বেসরকারি অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
কিউআরএস টিমের এক সভা গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে সত্য বলার অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া স্বাধীন, শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম বিকশিত হতে পারে না। একই সঙ্গে, প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে চিহ্নিত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো যথাযথ ও পদ্ধতিগতভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এই যাচাই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে কিউআরএস সদস্যরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন।’
বাংলাদেশে আইএমএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ শক্তিশালী করতে চাই এবং তাদের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য একটি সম্মিলিত প্রয়াস গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিস্টস সেফটি ফান্ড’ পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকির মুখে পড়া সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করবে।
উদ্যোগটির একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায়, গত তিন মাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ত্রিশটিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’
কিউআরএস সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজিজুল পারভেজ, অধিকারকর্মী শারাবান তহুরা, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ, মিডিয়া ও জেন্ডার গবেষক আফরোজা সোমা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী প্রমুখ।
