মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গোপন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বিচার করায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মহিউদ্দিন হিরণ দোকানদারের বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজির ফাঁসি ও সালিশের বিচারক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন হিরণ দোকানদারকে পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেন।
শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীরা বলেন, দ্রুত ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। যাতে আর কোনো ধর্ষক সমাজে সৃষ্টি হতে না পারে। পাশাপাশি অবিলম্বে সালিশি ইউপি সদস্য হিরণ দোকানদারকে প্রত্যাহার করে তাকে গ্রেফতার করা হোক।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল কলমা বাজারে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন।
গত ২১ এপ্রিল ১৬ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে টাকার লোভ দেখিয়ে পাশের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে আল মামুন ফরাজী (৫৫)। এ ঘটনা এলাকাবাসী টের পেয়ে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে অভিযুক্ত মামুন ফরাজীর পক্ষ নিয়ে হিরণ দোকানদার তার অনুগত লোক দিয়ে গোপন সালিশ বসান। সালিশে ভুক্তভোগীর বাবাকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এতে ভুক্তভোগীর বাবা রাজি না হলে তাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন সালিশকারীরা। সালিশের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২২ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
