হালকা বাতাসেও চলে যায় বিদ্যুৎ, ঈশ্বরগঞ্জে লোকসানের শঙ্কায় পোল্ট্রি খামারিরা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবারহ না পেয়ে একদিকে যেমন অনেক খামারির মুরগি মারা গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে লোকসানের শঙ্কায় অনেক খামারির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রেজিস্ট্রেশনকৃত ৬৫টি ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৮১৬সহ মোট ৮৮১টি পোল্ট্রি মুরগির খামার আছে। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনকৃত ৪টি ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ১৮২টি খামারসহ মোট ১৮৬টি হাঁসের খামার রয়েছে।

খামারিরা জানান, দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। আর একটু হালকা বাতাস ও বৃষ্টি হলেই আর দেখা মেলে না বিদ্যুতের। এতে মুরগির বাচ্চা ও লালন-পালনে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক বাচ্চা মারা যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করার চিন্তাও করছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পাড়াপাচাশী গ্রামের 'মা পোল্ট্রি ফার্মের মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন,আমার খামারে ৮ শতাধিক ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ছিল। লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো তাপ দিতে না পারায় শনিবার দিবাগত রাতে খামারের তিন শতাধিক পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। এতে আমার বিশ হাজারের বেশি টাকা লোকসান হয়েছে। এভাবে লোডশেডিং হলে বাকী বাচ্চাগুলোও মারা যাবে।

পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের এক নম্বার মোড় এলাকার খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, দিনে-রাতে একাধিকবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মুরগির খামারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে করে ছোট বাচ্চা মুরগি মারা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং বড় মুরগির উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। অনেক খামারির বড় মুরগি মারা যাওয়ার খবরও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে খামারের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে একসাথে বহু মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

শিমরাইল গ্রামের এমদাদুল পোল্ট্রি খামারের প্রোপাইটর এমদাদুল হক বলেন, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করলেও জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খামারিরা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পোল্ট্রি খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধন বলেন, ‘সারা দেশেই বিদ্যুতের সমস্যা। বিদ্যুতের উৎপাদন কম, চাহিদা বেশি। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঝড়ের কবলে পড়ে আমাদের অনেক বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইনগুলো মেরামত করে বিদ্যুৎ বিতরণ করা। এ ছাড়া আমরা বিদ্যুতের সাপ্লাই যখন বেশি পাই তখন আমারা বেশি সরবরাহ করতে পারি।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, এটা এখন জাতীয় সমস্যা,এখানে আমাদের হাত নেই। আমাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ পাচ্ছি তিন থেকে চার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যু্ৎ না পাওয়ায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহম্মেদ বলেন, যেকল খামারির জেনারেটর আছে তাদের আমরা ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রত্যয়ন দিয়েছি, যেন লোডশেডিংয়ে তারা খামারে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করে মুরগির পরিচর্যা করতে পারে। এ ছাড়া সেকল খামারে জেনারেটর নেই তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত