ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদের দিক দিয়ে বিএনপি জোট এগিয়ে রয়েছে। এই জোটের ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জনই কোটিপতি। মোট প্রার্থীর ৪৪ শতাংশই সম্পদশালী। অন্যদিকে সম্পদের বিচারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা অনেকটাই পিছিয়ে। এই জোটের ১২ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজনই কোটিপতি।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বৈধ বলে বিবেচিত ৪৯ প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির কোটিপতি ও সম্পদশালী প্রার্থীরা
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি জোটের ১৬ কোটিপতি প্রার্থী হচ্ছেন-সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, শওকত আরা আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, সুলতানা আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, ফেরদৌসী আহমেদ, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, আন্না মিন্জ, সানজিদা ইসলাম তুলি, সাবিরা সুলতানা, মাহমুদা হাবীবা, হেলেন জেরিন খান, নেওয়াজ হালিমা আরলী এবং রাশেদা বেগম হিরা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সম্পদের পরিমাণ দুই থেকে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।
কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তাঁর রয়েছে সাড়ে ১০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ব্যক্তিগত মালিকানায় ৫০২ ভরি স্বর্ণ। এর বাইরে তাঁর স্বামী অমিতাভ রায়ের নামে রয়েছে আরও ১০০ ভরি গহনা। এই দম্পতি ৬০২ ভরি স্বর্ণালংকারের মালিক, যার অর্জনকালীন মূল্য জানা না থাকলেও এগুলো উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।
নিপুণ রায়ের বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে বছরে ২৬ লাখ টাকা এবং শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় করেন। তাঁর ব্যাংকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। এক কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি এবং ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটও রয়েছে। এই নেত্রীর স্বামীর নামে অস্থাবর সম্পদের মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। আর নগদ অর্থ হিসেবে স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে তাদের কাছে ৭৬ লাখ টাকা রয়েছে। যার মধ্যে ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা নিপুণ রায়ের নিজের নামে। নিপুণ রায়ের নামে এক কোটি ১৯ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য দায় রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিপুণ রায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। ৮৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেত্রীর বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ টাকার বেশি। গত বছর নির্বাহী আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আটটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিএনপির আরেক প্রার্থী হেলেন জেরিন খানের সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৫ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত ও নগদ অর্থ ছাড়াও ৫০ ভরি স্বর্ণ ও ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩০ কাঠা জমির ৬টি প্লটের মূল্য দেখিয়েছেন ৭৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা। ঢাকায় ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি এবং কুমিল্লায় ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর। হেলেনের বৈদেশিক মুদ্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার ২৭৭ টাকা এবং স্বামীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা থাকলেও সব মামলায় অব্যাহতি পান।
এ ছাড়া শামীম আরা বেগম স্বপ্না জমি বিক্রির বড় অঙ্কের আয়সহ ৪ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। রেহেনা আক্তার রানুর রয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ। এ ছাড়া সানজিদা ইসলাম তুলি ২ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ ও ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন।
জামায়াত জোটের কোটিপতি প্রার্থী
জামায়াত জোটের ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র কোটিপতি হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৬ টাকা। তাঁর বছরে আয় ১৬ লাখ ৭ হাজার ২৫০ টাকা। এই নারী নেত্রীর ১৩ ভরি স্বর্ণ এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রাজধানীর উত্তরায় ৮ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকার জমি রয়েছে। সাবিকুন্নাহারের স্বামীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ১৩০ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয় ১৬ কোটি টাকা।
জামায়াত জোটের প্রার্থী নূরুন্নিসা সিদ্দীকার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। একই জোটের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতুর স্থাবর সম্পদ না থাকলেও ৩১ লাখ ২৮ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা।
