রেকর্ড দাবানলে জ্বলছে বেলজিয়াম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

বেলজিয়ামে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং তা জার্মানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। 

দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হাই ফেন্সে শুক্রবার থেকে এই আগুন জ্বলছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে বেলজিয়ামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দমকলকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিবেশী জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের দমকল বাহিনীও কাজ করছে। সেনাবাহিনী ও কৃষকরাও আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছেন।

ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের মুখপাত্র স্টেফানি এরনু রয়টার্সকে বলেন, রোববার উদ্ধারকারী দলগুলো জার্মানির দিকে এগিয়ে যাওয়া আগুনের সম্মুখভাগ নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে তারা আশা করছেন।

ইউরোপীয় বন আগুন তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, এবারের দাবানল ২০১১ সালের আগুনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড়। ২০১১ সালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গিয়েছিল।

বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে জার্মানির মন্সশাও শহর কর্তৃপক্ষ রোববার জানিয়েছে, আগুন জার্মান ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে ব্যাপক ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ হতে পারে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শহরটির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেলজিয়ামের জরুরি সহায়তার অনুরোধের পর শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি পানি ছিটানো বিমান মোতায়েন করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন থেকে সরিয়ে নেওয়া গ্রামগুলো রক্ষায় তৈরি প্রতিরোধব্যবস্থা রোববারও কার্যকর ছিল। তবে শনিবার সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের আপাতত বাড়িতে না ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লিয়েজের গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে আগুন এখনো কাছাকাছি রয়েছে এবং ধোঁয়ার মাত্রাও উল্লেখযোগ্য।

বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলতি সপ্তাহে গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মধ্যেই এই দাবানল শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত