কলম্বিয়ায় বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় নিহত ১৪

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ এএম

কলম্বিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সংঘাতময় অঞ্চল ‘কাউকা’র একটি মহাসড়কে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন; এর মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন। কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান জানান, স্থানীয় সময় শনিবার কাজিবিওর এল টুনেল এলাকায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে এই বিস্ফোরণ ঘটে। আগামী মাসে কলম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এ বিস্ফোরণ কোকো উৎপাদনের জন্য পরিচিত ওই অঞ্চলটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সর্বশেষ সহিংস ঘটনার নজির। এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলেছে কলম্বিয়া সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো- এ হামলার জন্য লাতিন আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএআরসি (ফার্ক) গেরিলা গোষ্ঠী মতাবলম্বী দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য এই গেরিলারা কলম্বিয়া জুড়ে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

কাউকার গভর্নর এক্স পোস্টে মহাসড়কের উপর উল্টে থাকা যানবাহন এবং বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট গর্তের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। গুজমান লিখেছেন, কাউকা একা এই বর্বরতা মোকাবিলা করতে পারবে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে তারা কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছিলেন। গভর্নর জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে কাউকাতে ছোটখাটো আরও কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে; যার মধ্যে কালি শহরের সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে হামলা হয়েছে, সেখানে দুজন আহত হন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো আর্নুলফো সানচেজ জানিয়েছেন, সেদিন সকালে কাউকা অঞ্চলে বিস্ফোরক ঠাসা একটি বাস নিয়ে হামলার চেষ্টা হয়। তবে হামলাকারীরা বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যর্থ হয়।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’। তিনি এর জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেটওয়ার্ক এবং ‘জাইমে মার্টিনেজ’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী’ বলে উল্লেখ করেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন ‘আমি চাই, আমাদের সেরা সেনারা তাদের মোকাবিলা করবে।’ সাবেক গেরিলা যোদ্ধা পেত্রো বিভিন্ন সশস্ত্রগোষ্ঠীর সঙ্গে একটি বিতর্কিত শান্তি কৌশল অনুসরণ করে আসছেন। তাতে মাঝেমধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং কিছু সময় তুলনামূলক কম সহিংসতা দেখা গেছে।

ফার্ক এর যেসব সদস্য ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেত্রো সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গত বছর জুন মাসে রাজধানী বোগোতায় একটি সমাবেশে ডানপন্থি প্রার্থী মিগেল উরিবে তুরবায়কে গুলি করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। তিনি দুই মাস পরে হাসপাতালে মারা যান। আসন্ন নির্বাচনের আগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পেত্রোর আলোচনা কৌশলের প্রধান সমর্থক বামপন্থি সেনেটর ইভান সেপেদা বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত