যুদ্ধ থামলেই স্বাভাবিক ইন্টারনেট চালু করবে ইরান

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ এএম

ইরানের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, চলমান সংঘাত শেষ হলেই দেশটিতে স্বাভাবিক ইন্টারনেট সেবা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা ইন্টারনেট বিধিনিষেধ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে রবিবার (২৬ এপ্রিল) তারা এ ব্যাখ্যা দেয়। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার নীতির বিরোধী। তারা দাবি করে, 'ইন্টারনেট প্রো' নামের বর্তমান এই সীমাবদ্ধতা স্থায়ী নয়; এটি কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আরোপ করা সাময়িক ব্যবস্থা।

দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত শেষ হলে সব নাগরিকের জন্য স্বাভাবিক ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকেই ইসলামিক রিপাবলিক ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে কেবল তথাকথিত 'ন্যাশনাল ইন্টারনেট' চালু আছে, যার মাধ্যমে শুধু রাষ্ট্র অনুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করা যায়।

এর ফলে বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন লাখো ইরানি নাগরিক। একই সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনলাইন ব্যবসায়ীরা। আনুমানিক দশ লাখ অনলাইন বিক্রেতা এই বিধিনিষেধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতাসীনদের সমর্থক গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে। কারণ, সরকারের 'ইন্টারনেট প্রো' প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবী ও রাষ্ট্র নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, এটি একটি 'দুই স্তরের ইন্টারনেট ব্যবস্থা', যেখানে সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে।

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপের সাফাই দিলেও, পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত সম্পর্কিত ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত