চট্টগ্রাম নগরে গত দুদিনে মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে কোথাও জমেছে হাঁটুপানি, কোথাও বুকসমান পানি। বেশ কয়েকটি সড়ক তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এমন অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগের। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে। নগরের প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকা কোমরসমান নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
জলাবদ্ধতা কারণে কষ্টের শিকার চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার।’ তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। গতকাল সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
গত মঙ্গলবার দুপুরের পর টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও জলাবদ্ধতার শিকার হয়। জলাবদ্ধতা নিয়ে জনগণের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘জনগণকেও শহরের প্রতি দরদ থাকতে হবে। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ককশিট আমরা ফেলব আর সারাক্ষণ মেয়রকে গালিগালাজ করব বা অন্য সংস্থাকে। এটা তো হতে পারে না। এই শহরের দায়বদ্ধতা সবার। এটা একা মেয়রের শহর না। শহরটা সবার।’
এ সময় মঙ্গলবার এক নাগাড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে দাবি করে মেয়র বলেন, ‘জনগণকে বলব, ভয়ের কিছু নেই। এখন প্রলম্বিত বর্ষা হয়। সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। গতবার যেভাবে ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমিয়ে দিয়েছি, এবার ৭০-৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পারব ইনশা আল্লাহ।’
মেডিকেল, চকবাজার, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর এসব এলাকায় পানি বেশি উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারণ এখানে প্রায় ৩০টির মতো বাঁধ দেওয়া হয়েছে হিজড়া খালের কাজের জন্য। সে কারণে পানি আর যেতে পারেনি। না পেরে পানি উঠে গেছে। বিকেলে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি আস্তে আস্তে সরে গেছে। রাতে এখানে এসেছি, সামান্য পানি ছিল তখন।’
মেয়র জানান, মেগা প্রজেক্টের অধীনে সিডিএ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ২০১৬ সাল থেকে সেখানে কাজ করছে। বেশির ভাগ খালের কাজ শেষ।
এদিকে বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে বদিউর রহমান নামে একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখনো বর্ষা পুরোপুরি শুরু হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ভারি বৃষ্টিতে কী হবে? তখন তো ঘর থেকেই বের হওয়া যাবে না।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি খুব বেশি না হলেও মূলত ‘হিজড়া খাল’ সম্প্রসারণের কাজের জন্য খালের মুখে দেওয়া মাটির অস্থায়ী বাঁধের কারণেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোলপাহাড়-মেহেদীবাগ এলাকা থেকে শুরু হওয়া হিজড়া খালটি অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। একসময় এটি ৩০ ফুট চওড়া থাকলেও অবৈধ স্থাপনার কারণে বিভিন্ন জায়গায় এটি ১২ থেকে ১৫ ফুটে নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৬টি খাল সংস্কারের একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সিডিএ সূত্র জানায়, বেশির ভাগ খালের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ এখনো শেষ হয়নি।