জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

চট্টগ্রাম মহানগরে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগে নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা চলছে। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্বের জন্য ৪০ মিনিট নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি প্রশ্ন ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের দুটি প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে গলা পর্যন্ত পানি। মানুষ ভাবতে শুরু করেছে যে চট্টগ্রামের এই সমস্যার কোনোদিন সমাধান হবে না। তিনি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসন করতে কিছুটা সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’ তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু চট্টগ্রামে নয়, বলা যায় সারা দেশেই আছে। ঢাকায়ও বৃষ্টির সময় অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে যেমন পানির রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, একইভাবে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। আমাদের ঠিক একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এরই মধ্যে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহরাঞ্চলে অসাবধানতাবশত ফেলা প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বোতলের কারণে খাল, ড্রেন ও নর্দমাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খাল খনন ও ড্রেন পরিষ্কার করছে। মানুষকে সচেতন করা সংসদ সদস্যদেরও নৈতিক দায়িত্ব।’

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা : দেশের পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে আগামী ৩ মাস সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল দুপুরে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি খুবই উদ্বেগের ব্যাপার। আবহাওয়া পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে ৩ দিন আগে এই ৩টি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে আমি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আজ সকালেও আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছি। প্রবল বর্ষণে সিলেটের তিন জেলা ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এতে যে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আগামী ৩ মাস আমরা চেষ্টা করব সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য।’

রাজধানীকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ গড়তে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রিন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এসব পরিকল্পনার মধ্যে রাজধানীতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস নামানো হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে রোপণ করা হবে ২৫ কোটি বৃক্ষ। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’ সরকার ঢাকামুখী স্রোত কমাতে চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করছে। একই সঙ্গে চেষ্টা করছে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাসেবাও গড়ে তুলতে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখাপড়ার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে। এই সুবিধাগুলো যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে মানুষ ঢাকা শহরে আসার জন্য কম উৎসাহিত হবে। ধীরে ধীরে ঢাকার ওপরে চাপ কমাতে সক্ষম হব।’

ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি কমবে : ফ্যামিলি কার্ডকে ‘রাষ্ট্রের বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ। যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।’ গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘ফ্যামিলি কার্ডের টাকা খরচ হলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে’-এ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের কেনা জিনিসগুলো স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পায়নে যাবে। স্থানীয় দোকানেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে।’

অসুস্থ বিরোধীদলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী : গতকাল অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি হাফেজ রবিউল বাশার। পরে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। জোহরের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ লবিতে গিয়ে এই সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপসহ অন্য হুইপরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত