আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাভিমুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর ইসরায়েলি নৌবাহিনী সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গ্রিসের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরায়েলি কমান্ডোরা গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া বেসামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং আত্মসমর্পণের দাবি জানাচ্ছে। ৫৫টি দেশের নাগরিক ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের জীবন বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি নৌবাহিনী তাদের নিজস্ব জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে এসে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক জাহাজে হস্তক্ষেপ করছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর এই সশস্ত্র হুমকি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফ্লোটিলার তথ্যমতে, জাহাজগুলোতে বিশ্বের ৫৫টি দেশের সাধারণ নাগরিক, সাহায্যকর্মী এবং শান্তিকামী প্রতিনিধিরা রয়েছেন। নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। বিশেষ করে গ্রিস সংলগ্ন জলসীমায় এই ঘটনা ঘটায় গ্রিস সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লোটিলার রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল ও মিত্ররা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারীদের অবিলম্বে কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে হবে। এবং তৃতীয়ত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি এক আহ্বানে বলা হয়েছে, আজ রাতে বিশ্ব দেখল আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইজরায়েলি নৌবাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যুতা। গাজার জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া নিরস্ত্র মানুষদের ওপর এই হামলা কোনোভাবেই আইনত বৈধ নয়। এটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। দায়মুক্তির এই সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফ্লোটিলাটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হুমকি এখনো কাটেনি। প্রতি মুহূর্তে ফ্লোটিলায় থাকা ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছে। নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
