এই হলো বাংলাদেশের ফুটবল: হুমকিতে লালকার্ড বদলে গেলো হলুদকার্ডে 

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে অদ্ভুতুড়ে ঘটনার অভাব নেই, তবে আজ মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তা ফুটবলীয় শিষ্টাচারকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আরামবাগ ক্রীড়া চক্র ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নজিরবিহীন হট্টগোল আর চাপের মুখে লাল কার্ড বদলে হলুদ কার্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে উত্তেজনার শুরু হয় যখন ব্রাদার্সের ইব্রাহিমা বারি আরামবাগের ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড কোয়ামে কিজিতোকে ফাউল করেন। রেফারি বিতু রাজ বড়ুয়া বাঁশি না বাজালে কিজিতো ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহিমাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন। রেফারি প্রথমে কিজিতোকে হলুদ কার্ড দেখালেও চতুর্থ রেফারির পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত আসার পরপরই আরামবাগের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা মাঠে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা দলগতভাবে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার এবং খেলা বন্ধ রাখার হুমকি দেন। প্রায় ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর সহকারী রেফারিদের সাথে আলোচনা করে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে আবারও সরে আসেন রেফারি বিতু রাজ। তিনি কিজিতোর লাল কার্ড বাতিল করে পুনরায় হলুদ কার্ড বহাল রাখেন, যা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ব্রাদার্স অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।

ফুটবল খেলার আইন-কানুন এর ৫ নম্বর আইন (Law 5 - The Referee) অনুযায়ী রেফারি তার কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন। রেফারি কেবল তখনই একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন যদি তিনি বুঝতে পারেন যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, অথবা তার বিবেচনামতো অন্য কোনো ম্যাচ কর্মকর্তার (সহকারী রেফারি বা চতুর্থ কর্মকর্তা) পরামর্শে তা করতে পারেন। তবে ভিএআর প্রযুক্তিহীন এই লিগে চাপের মুখে এভাবে সিদ্ধান্ত বদলানোর ঘটনা বিরল। এই গোলমালের কারণে প্রথমার্ধে নির্ধারিত সময়ের পর আরও ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় খেলা হয়।

মাঠের এই নাটকের পর ম্যাচটি ২–২ গোলে ড্র হয়। ব্রাদার্স ইউনিয়ন দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত