মোহামেডানকে হারিয়ে স্বস্তিতে বসুন্ধরা

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৬:০৮ এএম

পা হরকালেই ছুঁয়ে ফেলবে আবাহনী। এমন অস্বস্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে নেমেছিল শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস। ২৮ মিনিটে উজবেক প্লে-মেকার মোজাফফরভের গোলে লিড নিয়ে নেয় মোহামেডান। তাতে দুশ্চিন্তাটা বেড়ে গিয়েছিল বহু গুণে। তবে সব চাপ সামলে বসুন্ধরা কিংস মাঠ ছেড়েছে ২-১ জয়ের স্বস্তি নিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলিয়ান গোলমেশিন ডরিয়েলটন গোমেজ গোল করে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন। তাতে আবাহনীর সঙ্গে ব্যবধানটা ছয় পয়েন্টে নিয়ে গেছে বসুন্ধরা। এই রাউন্ডে আবাহনী যদি জয়ও তিন পয়েন্টের লিড থাকবে তাদের। ১৫ ম্যাচে বসুন্ধরার সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলা আবাহনীর ২৮। মোহামেডান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে। লিগের ঘটনাবহুল অপর ম্যাচে ব্রাদার্স ২-২ গোলে ড্র করেছে আরামবাগের সঙ্গে। সমান ১৪ পয়েন্টে ব্রাদার্স আছে সাতে, আরামবাগ আটে। 

শনিবার দেশব্যাপী শুরু হবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। সরকারি এ আয়োজনের জন্য লিগের ১৫তম রাউন্ডের খেলা একদিন করে এগিয়ে আনায় মোহামেডান ও বসুন্ধরাকে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হতে হয়। প্রথম পর্বে দুদলের ম্যাচটা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়। তবে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে গতকালের ম্যাচটা যে ম্যাড়মেড়ে হবে না, তা শুরু থেকেই বোঝা গেছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর অধীনে বদলে যাওয়া মোহামেডান শুরু থেকেই মরিয়া চেষ্টা করেছে গোলের। ১৮তম মিনিটে আরিফ হোসেনের থ্রু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বসুন্ধরা কিপার আনিসুর রহমান জিকোকে একা পেয়ে যান সৌরভ দেওয়ান। তবে সৌরভের তাড়াহুড়ো করে নেওয়া শট আগুয়ান জিকোর গায়ে লাগলে ভালো সুযোগ নষ্ট হয়।

তবে ২৮ মিনিটে ঠিকই মোহামেডানকে এগিয়ে নেন মোজাফফরভ। সাইফুল হাসানের টোকা বাইলাইনে কাছাকাছি পেয়ে যান উজবেক তারকা। এরপর অপ্রস্তুত জিকোর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল পোস্টে জড়ান বুলেট গতির শটে। পিছিয়ে পড়ে বলতে গেলে সম্বিত ফিরে পায় বসুন্ধরা। তারাও আক্রমণে উঠতে শুরু করে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাইলাইনের ওপর থেকে গোলমুখে কাটব্যাক করেন রাকিব হোসেন। ডান পায়ের প্লেসিংয়ে মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা আনেন ফাহিম।

বিরতির পর দুদলই গোলের চেষ্টা করেছে। ৫৯ মিনিটে মোজাফফরভের কর্নার লাফিয়ে ক্লিয়ার করেন জিকো। এর পরপরই পাল্টা আক্রমণে কিংসের ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমনের শট সুজনের পায়ে লেগে পোস্টের বাইরে যায়। ৬৮ মিনিটে ডরিয়েলটন নিজের জাত চেনান। অর্ধ থেকে সতীর্থের বাড়ানো লং বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ফাহমিদ। তার ক্রসে পা ছুঁইয়ে লিগে ১৬তম গোলটি করেন ডরিয়েলটন। ৭৮ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের সাইড ভলি লক্ষ্যে থাকেনি। এর পরপরই মোহামেডানের আরিফের দুর্বল ভলি জিকো আয়ত্তে নেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ডরিয়েলটনের আরেকটি প্রচেষ্টা সুজন রুখে দিয়েছেন ঠিক। তবে দলের হারের গ্লানি মুছতে পারেননি।

মুন্সীগঞ্জে প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নিয়েছিল আরামবাগ। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড কোয়ামে কিজিতো। ৩২ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে ম্যাচ বন্ধ থাকে ১৪ মিনিট। এর সময় ব্রাদার্সের ইব্রাহিমা বারি কিজিতোকে ফাউল করলেও বাঁশি বাজাননি রেফারি। মেজাজ হারিয়ে কিজিতো ইব্রাহিমাকে আঘাত করে ফেলে দিলে বিটু প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান। পরে চতুর্থ রেফারি পরামর্শে দেখান লাল কার্ড। এতেই ক্ষেপে গিয়ে আরামবাগ ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিলে খেলা বন্ধ থাকে বেশ কিছু সময়। হুমকির মুখে রেফারি বিটু রাজ সিদ্ধান্ত বদলে কিজিতোর লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। এরপর আরামবাগের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেনাশ কুয়ানাশ। বিরতির পর ব্রাদার্স দুটি গোল পরিশোধ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত