শৈশবের নায়কদের সামনে নায়ক হাসান

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ এএম

২৩ বছর পর নিজেদের দেশে বাংলাদেশকে টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাঠের বাইরে সম্মানের কোনো কমতি রাখেনি তারা। দুই ম্যাচের এ সিরিজ শুরুর বেশ আগে থেকেই অজি ক্রিকেটার থেকে তাদের কোচিং প্যানেলের সদস্যরা দুই দেশের পেসারদের মধ্যে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন। তবে নাহিদ রানা চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার পর একপেশে লড়াইয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও করে রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো। অথচ ডারউইনে গতকাল বাজিমাত সফরকারী পেসারদের। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের দাপটে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের সব শিকার করেন বাংলাদেশের পেসাররা।

এমন ধ্বংসযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন হাসান। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ২২ গজ প্রস্তুত ছিল প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউডের আগুনঝরা বোলিংয়ের সাক্ষী হতে। যাদের খেলা দেখে পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন হাসান। এখন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সেই শৈশবের নায়কদের দর্শক বানিয়ে তাদের সামনেই নিজে নায়ক সাজলেন তিনি। প্রথম দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাসান বলেন, ‘আমি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি, তখন থেকেই তাদের অনুসরণ করছি। স্টার্ক, কামিন্স ও হ্যাজলউড অস্ট্রেলিয়ার আমার পছন্দের সেরা ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অন্যতম। তাই তাদের এভাবে সামনে দেখতে পেয়ে এবং বিশেষ করে তাদের সঙ্গে খেলতে পেরে আমি খুবই খুশি।’

হাসানের বোলিংয়ের মূল শক্তি বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ। নির্দিষ্ট লাইন-লেংথে ধারাবাহিক বোলিং করে ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেন তিনি। তার ৪৪.৬ শতাংশ ডেলিভারি ছিল গুড লেংথে, ১৭. ৬ শতাংশ হার্ড ব্যাক-অব-এ লেংথে এবং ২৭.৭ শতাংশ শর্ট লেংথে। সিম ও ওবল-সিমের কার্যকর ব্যবহার তার বোলিংকে আরও ধারালো করে। যে অস্ত্রে একে একে কাটা পড়েন জ্যাক ওয়েদারল্ড, ট্রাভিস হেড, কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, স্টিভ স্মিথ ও নাথান লায়ন। হাসানের ক্ষুরধার বোলিং দেখে মাঠেই প্রশংসা করেন প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররা।

হাসানের এমন বোলিংয়ের প্রশংসা করলেও বিস্ময়কর নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘অসাধারণ, কন্ডিশনটা খুবই ভালোভাবে ব্যবহার করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের ভালো বোলিং আক্রমণ দরকার ছিল। সে এমন একজন যে, টেস্টে ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিতে পারে। আমি তার বোলিং দেখে বিস্মিত হইনি। কিন্তু অসাধারণ বল করেছে। আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা সে সবসময় মনে রাখবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন সাফল্যের পেছনে প্রস্তুতিকে বড় কারণ বলে মনে করছেন হাসান। জিম্বাবুয়েতে কন্ডিশনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেননি তারা। এ জন্য একমাত্র টেস্ট আড়াই দিনে হারতে হয়। এবার সিরিজ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় যান টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ হারলেও খুশি ছিলেন সফরকারীরা। সে ম্যাচে এক ইনিংসে ৪ উইকেট নেন হাসান। গতকাল ৬ উইকেট শিকার করে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে বোলিং করা খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে আমাদের সর্বশেষ অনুশীলন ও প্রস্তুতি খুবই ভালো ছিল। অনেক দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। বোলাররা খুবই ভালো অনুশীলন করেছে এবং ম্যাচেও সেটি দেখাতে পেরেছে।’ ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলা অস্ট্রেলিয়ায় আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সহজ হয়েছে বলে দাবি হাসানের, ‘আমি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছিলাম। সেখান থেকেই শুরু। আমার কাছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটা একই রকম মনে হয়েছে। তাই সেখানকার অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়েছি। ব্ল্যাকপুলেও ৬ উইকেট পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না বাংলাদেশ। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৬ বছরে তাদের বিপক্ষে মাত্র ছয় টেস্ট খেলেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হাসানের সৌজন্যে এমন পারফরম্যান্সে অজিদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন বাশার, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব বেশি খেলিনি। এমন একটা পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে একটা বার্তা। সবাই জানে বাংলাদেশ ক্রিকেট কতখানি এগিয়েছে। তার বড় প্রমাণ হাসানের এমন বোলিং।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত