কিংবদন্তি লিওনেল মেসি দলের প্রয়োজনে দ্রুত মাঠে ফিরে অবিশ্বাস্য পেশাদারত্বের নজির স্থাপন করলেও ভাগ্য বদলায়নি তার দলের। মেক্সিকান ক্লাব লিওনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ২০২৬ লিগস কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে ‘লাস গার্সাস’খ্যাত দলটি। মেসির মাঠে নামার তাগিদ এবং সতীর্থ কাসেমিরোর চরম বিস্ময়, সব মিলিয়ে এক নাটকীয় ও আবেগময় রাতের সাক্ষী হলো মায়ামি।
সম্প্রতি বাবাকে হারিয়ে চরম শোকের মধ্যেও দলের টানে দ্রুত মায়ামিতে ফেরেন অধিনায়ক মেসি। মৃত বাবাকে উদ্দেশ করে বিমানের ফ্লাইটে লেখা চিঠিতে মেসি লিখেছিলেন, ‘তোমাকে ছাড়া ফুটবলটা আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারব, তা নিয়ে আমার মনে গভীর সন্দেহ আছে।’ এত বড় ব্যক্তিগত শোকের পরও মায়ামিতে ফেরার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাঠে নেমে পড়ার এই অবিশ্বাস্য মানসিকতা সতীর্থদেরও হতবাক করে দেয়।
ড্রেসিংরুমে মেসিকে হঠাৎ দেখে নিজের মুগ্ধতা ও বিস্ময় লুকাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরো। মেসির এই মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘অবশ্যই, ড্রেসিংরুমে যখন আপনি লিওকে দেখবেন, আপনার স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ লাগবে। কিন্তু সত্যি বলতে, ও আমাকে ভীষণ অবাক করেছে। ক্লাবের প্রতি ওর এই অসামান্য দায়বদ্ধতা দেখে আমি সত্যিই স্তম্ভিত।’ সতীর্থের এমন নিবেদনকে সম্মান জানিয়ে কাসেমিরো আরও যোগ করেন, ‘তার এই নিবেদনের জন্য আমরা শ্রদ্ধায় মাথা নত করি এবং তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এই কঠিন সময়ে সবসময় তার এবং তার পরিবারের পাশে আছি।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে মেসির অনুপস্থিতিতে তরুণ ফরোয়ার্ড ডানিয়েল পিন্টারের গোলে মায়ামি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ৬০ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে বল বাড়িয়ে দিলে ইয়ানিক ব্রাইট মায়ামিকে আবার এগিয়ে নেন। কিন্তু রক্ষণভাগের চরম দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকান ক্লাব লিওন পরপর দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের দখলে নেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে মেসি কয়েকটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করলেও বিশেষ করে ৭৪ মিনিটে তার নেওয়া চোখ জুড়ানো কর্নার গোললাইন থেকে প্রতিহত হয়। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি।
তিন ম্যাচের দুটিতেই হেরে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মায়ামির লিগস কাপ অভিযান এখানেই শেষ। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজলেও, কঠিন ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মুখেও দলের প্রতি মেসির এই অসামান্য দায়িত্ববোধ ও উপস্থিতি ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায় হয়েই থেকে যাবে।