বাধা হতে পারে পুরনো রেকর্ড

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

স্পেনে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার উদ্যোগ ইউরোপজুড়ে নানা আলোচনা ও সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। তবে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পূর্বে দেওয়া আশ্রয় আবেদন, বসবাসের অনুমতির আবেদন, আঙুলের ছাপ এবং পুরনো অভিবাসন তথ্য। বিশেষ করে যারা ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম বা অন্য দেশে আগে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের তথ্য স্পেনের যাচাই প্রক্রিয়ায় সামনে চলে আসতে পারে।

কর্মসূচিটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয় এবং এপ্রিল মাসে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনেও আবেদন শুরু হয়েছে। এর আওতায় বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, যদি তারা দেশে কমপক্ষে পাঁচ মাস বসবাস করে থাকেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকে। আবেদন করার জন্য জুন মাসের শেষ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্পেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসী এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে স্প্যানিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফুঙ্কাসের হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রায় আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৭০টিরও বেশি ডাকঘর আবেদনকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬০টি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যালয় এবং কয়েকটি অভিবাসন কার্যালয়েও আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার কয়েকটি ডাকঘরে আবেদনকারীরা প্রক্রিয়াকে তুলনামূলক স্বাভাবিক বললেও অনেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ করেছেন।

বহু অভিবাসী প্রথমে সমুদ্রপথে বা স্থলপথে ইউরোপে প্রবেশের সময় ইতালি, গ্রিস বা অন্য দেশে নিবন্ধিত হন। পরে তারা স্পেনে চলে আসেন। এখন বৈধতার আবেদন করতে গেলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসছে। প্রথম নিবন্ধন কোন দেশে হয়েছিল, আশ্রয় আবেদন এখনো চলমান কি না, আবেদন বাতিল হয়েছে কি না, অন্য দেশে থাকার অনুমতি ছিল কি না, কোনো দেশে এখনো সক্রিয় রেসিডেন্সি আছে কি না, বহিষ্কার আদেশ আছে কি না। এসব বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারলে আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

ইউরোপীয় অঞ্চলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য সমন্বিত নেটওয়ার্ক রয়েছে। সীমান্তে আটক হওয়া, আশ্রয় আবেদন, ভিসা, বহিষ্কার আদেশ, নিরাপত্তা সতর্কতা এবং আঙুলের ছাপ এসব তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকে। ফলে স্পেনে আবেদন করলেও পূর্বের ইতিহাস যাচাইয়ের আওতায় আসছেন অনেক আবেদনকারী।

অভিবাসীদের ভাষায় ‘সিস’ নামে পরিচিত বিষয়টি মূলত ইউরোপীয় তথ্যব্যবস্থায় সংরক্ষিত আঙুলের ছাপ, পরিচয় ও চলাচলসংক্রান্ত রেকর্ড। আবেদনকালে নতুন করে বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার সময় পুরোনো তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত যাচাই শুরু করতে পারেন।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অতিরিক্ত সংকট : আবেদনকারী এক বাংলাদেশি মোহাম্মদ রানা জানান, যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আগে রেসিডেন্সি বা আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন, তারা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে না পারা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহে বিলম্ব, পাসপোর্ট নবায়ন জটিলতা এবং দূতাবাসের ধীরগতির কারণে অনেকে নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন না। অনেকেই দালালের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করে সময়মতো হাতে পাচ্ছেন না।

কারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে : যারা আগে অন্য দেশে আশ্রয় আবেদন করেছেন, যাদের আঙুলের ছাপ প্রথম প্রবেশ দেশে আছে, যাদের নামে বহিষ্কারাদেশ রয়েছে, যারা একাধিক পরিচয় ব্যবহার করেছেন, যাদের নথিপত্র অসম্পূর্ণ, তারা এই আবেদনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন।

কারা সুবিধা পাবেন : যারা দীর্ঘদিন স্পেনে অবস্থান করছেন, কাজের প্রমাণ আছে, স্থানীয় নিবন্ধন রয়েছে, কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং পরিচয়পত্র সঠিক আছে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত