নিলামে উঠছে সাবেক মন্ত্রীর ভাইয়ের সম্পত্তি

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই মেহেরপুর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদালতের দেওয়া আদেশ কার্যকর করতে যাচ্ছে প্রশাসন। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তার সম্পত্তি নিলামে তুলে আদেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরফরাজ হোসেন মৃদুলের বিরুদ্ধে তারই ব্যবসায়িক পার্টনার দেবাশীষ কুমার বাগচির দায়ের করা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় আদালত এই আদেশ দিয়েছে। আদালতের আদেশের সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিবেদন অনুসারে মৃদুলের মালিকানায় বাড়ি ও জমিসহ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সমপরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুলের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন দেবাশীষ কুমার বাগচি। একপর্যায়ে সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেন মৃদুল। তখন মূলধন ও লাভসহ ৫ কোটি টাকা দাবি করেন বাগচি। কিন্তু মৃদুল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। বিষয়টি তার বড়ভাই তৎকালীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে জানালে তিনি দুই কোটি টাকা নিয়ে বিষয়টি শেষ করার নির্দেশ দেয়। তখন মৃদুল ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু রূপালী ব্যাংকের ওই চলতি হিসাব নম্বরে কোনো টাকা ছিল না। চেকটি ডিজঅনার হয়। দীর্ঘদিন ঘুরে টাকা না পাওয়ায় ২০২৪ সালে এনআই অ্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে মৃদুলের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করেন বাগচি।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত মৃদুলকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুণ জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। মৃদুল কোনো আপিল করেননি। ওই মামলায় মৃদুল এখনো কারাগারে রয়েছেন।

এর পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারায় জরিমানা টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন বাগচি। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকাসহ সমুদয় টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচি জানান, আদালত আড়াই মাস আগে ক্রোক আদেশ দিলেও প্রশাসন তা কার্যকর করেনি। হবে, হচ্ছে বলে দিন পার করছে।

যোগাযোগ করা হলে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ক্রোকের আদেশ পাওয়ার পর দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে; কিন্তু জেলা প্রশাসক পরিবর্তন হওয়ার কারণে তা বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হয়েছে। নতুন জেলা প্রশাসক এসেছেন, আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রশাসন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ক্রোক আদেশের কপি পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত