ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল ট্রমা সেন্টার। কিন্তু উদ্বোধনের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি এখন সাধারণ সর্দি-কাশির চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আর রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত সেবা থেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই ট্রমা সেন্টারটিতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। দুজন নার্স ও দুজন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে পুরো কেন্দ্র। যেখানে হাড়ভাঙা বা গুরুতর জখম হওয়া রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা, সেখানে এখন দেওয়া হচ্ছে কেবল জ্বর-সর্দি-কাশিসহ প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ওষুধ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবর আলী মুন্সী জানান, জমি অধিগ্রহণ ও ভবন নির্মাণে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনায় মূল্যবান এসি ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে।
ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা পাশর্^বর্তী ভাটিয়াপাড়া গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধ জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ‘এখানে ডাক্তর নেই। তবে সর্দি-জ্বর ও গ্যাসের ওষুধ চাইলে তা দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মো. ফারুক জানান, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিলেই দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করা যাবে।