ডিএমপি কমিশনার বললেন

রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয় চাঁদাবাজ চাঁদাবাজই

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি ‘সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল’ গ্রহণ করে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব অপরাধে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় বিবেচ্য বিষয় নয়, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানিয়েছেন কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে রবিবার পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা। এদের রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়, চাঁদাবাজ চাঁদাবাজই। এদের বিষয়ে কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। কেউ তদবির করতে এলে, ধরে নেওয়া হবে তদবিরকারীও এর সঙ্গে (অপরাধের) সঙ্গে জড়িত। এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমাদের লক্ষ্য অপরাধী নির্মূল করা, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরীকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। অপরাধ দমনে চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোয় বিশেষ অভিযান এবং আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চেকপোস্ট বসানো, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সদস্যরা সাদা পোশাকে নিয়োজিত রয়েছেন।

সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ তদন্তে জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল, ব্যবসাকেন্দ্র এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শনিবার ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে। আগে যেখানে ছোট পরিমাণের মাদকসেবী বা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হতো, গত কয়েক সপ্তাহে বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত