১৭ বছর পর সংস্কার শুরু

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৪৩ এএম

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, হামলা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার পর ফিরে পাচ্ছে নতুন রূপ। প্রায় ১৭ বছর পর সংস্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাদুঘরটি।

ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালে নির্মিত ‘লাট সাহেবের কুঠি’ নামের ভবনটি পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত হতো সার্কিট হাউজ হিসেবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এই ভবনেই একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণে ১৯৮১ সালের ৩ জুন ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর একটি শাখা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

তবে দীর্ঘ ১৭ বছর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অবহেলার শিকার হয়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একাধিবার জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দেয়। একই সময়ে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেয়ালে ফাটল, কাঠামোগত দুর্বলতা, নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র মিলিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য এটি অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি ভূমিকম্পের প্রভাবে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর একাংশ ভেঙে পড়ে একজন দর্শনার্থী আহত হন। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে জাদুঘরটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ভবনটির সংস্কার প্রসঙ্গে জাদুঘরের কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ গুপ্ত জানান, ‘সংস্কার কাজের শুরুতেই বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রতœতত্ত্ববিদরা ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুরো কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

ইতিমধ্যে জাদুঘরের ভবনে নতুন রঙ করা, বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার এবং গার্ডেন লাইটিং স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান জানান, ‘বিগত সরকার এই ঐতিহাসিক জাদুঘরটি সংস্কার না করে অযতœ অবহেলায় রেখেছিল ফলে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘরটি ঝুঁকিতে ছিল। এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।’

সংস্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কারের মাধ্যমে জাদুঘরটির আধুনিকায়ন করা হবে, দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। ভবনের ১৭টি গ্যালারিতে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন অধ্যায়।

সংস্কার কাজের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান ইস্মাত এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধায়ক মাহমুদুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘প্রকল্পে চলমান কাজের বাজেট ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আমরা আশা করি চলতি মাসেই সংস্কারকাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে পারব।’

জাদুঘর সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে সংরক্ষিত রয়েছে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সময় ব্যবহৃত ট্রান্সমিটার, রেডিও, চেয়ার ও টেবিল। এছাড়া গ্যালারিগুলোতে স্থান পাবে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ার নানা ছবি, ব্যক্তিগত ব্যবহৃত পোশাক, খাট, চেয়ার, আয়না ও জুতা, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র, বিভিন্ন প্রকাশনা ও উপহারসামগ্রী। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব জীবন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, সেনানায়ক, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান, শাহাদাত কক্ষ এবং অন্তিম যাত্রার নানা নিদর্শন নতুনভাবে সাজানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত