দক্ষিণী রাজনীতির থালাপতি ‘বিজয়’

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৪:২৭ এএম

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অভিনেতাদের আগমন কোনো নতুন ঘটনা নয়। অতীতে এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) এবং জয়ললিতার মতো কিংবদন্তিরা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজেদের কর্র্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে অভিনেতা থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানো বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) এককভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, টিভিকের এই জয় দক্ষিণী রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। বিধানসভার ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন ডিএমকে ৭৪টি এবং এডিএমকে ৫২টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন নিশ্চিত না হওয়ায় রাজ্যটিতে জোট সরকারই গঠিত হতে যাচ্ছে। আর প্রশ্নাতীতভাবেই তামিলনাড়–র নতুন মূখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সি. জোসেফ বিজয়।

তামিল রাজনীতি মূলত ডিএমকে ও এডিএমকে এই দুই দ্রাবিড় দলেরই একচ্ছত্র দখলে থেকেছে। অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় আসার নজির রাজ্যটিতে বিরল। তবে বিজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তার স্পষ্ট বার্তা। ২০২৪ সালে টিভিকে গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখা বিজয় প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়বে তার দল। ভোটের আগে এই নির্বাচনকে কেবল একটি ভোটযুদ্ধ নয়, বরং ‘গণতান্ত্রিক লড়াই’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি; বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি বা কোনো কিছুর জন্যই টিভিকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে কখনো আপস করবে না। আর এই কারণেই বিজয় ১৯৭৭ সালে এমজিআরের পর তামিলনাড়–র প্রথম অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন এবং ভাঙতে চলেছেন ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ড।

বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এটি কেবল ডিএমকের ওপর মানুষের ক্ষোভের ফসল নয়। এটা সত্যি যে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর ওপর মানুষের ক্লান্তি ছিল, তবে বিজয়ের এই রাজনৈতিক চিত্রনাট্য রজনীকান্তের মতো তার পূর্বসূরিদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বিজয়ের একটি বড় কৌশল ছিল তার দল টিভিকে-কে প্রতিষ্ঠিত দ্রাবিড়ীয় দলগুলো থেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরা। শুরুতেই টিভিকে জানিয়ে দিয়েছিল, তারা ডিএমকে ও এডিএমকে এই দুই দলের কোনোটির সঙ্গেই জোটে যাবে না। এর ফলে বিজয় নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন বিকল্প এবং শক্ত দুর্নীতিবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। এটি কেবল শহুরে ও তরুণ ভোটারদের কাছে দলটির আদর্শগত স্পষ্টতা দেয়নি, বরং বড় দলগুলোর ছায়ায় নিজেদের হারিয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করেছে।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, জোট সরকার গঠনে ড. অনবুমানি রামদোসের নেতৃত্বাধীন পট্টালি মাক্কাল কাছি (পিএমকে) সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদর্শগত বড় কোনো দ্বন্দ্ব না থাকায় পিএমকের জন্য এনডিএ ছেড়ে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়া কঠিন হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত