মাগুরায় এক গৃহবধূর ওপর অর্থলোভী স্বামীর বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে ফেলাসহ ভয়াবহ নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন দক্ষিণপাড়া এলাকায়। এদিকে জোরপূর্বক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালানোসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত দাউদ শেখ এখন পলাতক রয়েছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বর্ষা খাতুন হাসপাতাল ছেড়ে এখন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পারিবারিকভাবে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে বর্ষা খাতুনের সঙ্গে মহাম্মদপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আবু সাঈদ শেখের ছেলে দাউদ শেখের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই অর্থের জন্য স্ত্রীর ওপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী। এরই মধ্যে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
বর্ষা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ মে শুক্রবার রাতে শহরের পুলিশ লাইন দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন দাউদ শেখ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, তাকে দিয়ে জোরপূর্বক মোবাইলে মিথ্যা বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন। যেখানে ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর মুখ দিয়ে পরকীয়ার কথা বলানো হয়। পরে ধারণ করা সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে স্বামী দাউদ শেখ।
তিনি আরও জানান, গত ৩ মে বিকেলে পুনরায় নির্যাতন চালিয়ে তাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দাউদ শেখ। পরে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর অমানবিক ও বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার চুল কেটে দিয়ে অপমান করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
অভিযুক্ত দাউদ শেখের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
