বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় রদবদল দেখা গেল রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। নির্বাচনে হারের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ। আজ বুধবার (৬ মে) সকাল থেকেই সেই ছবি ধরা পড়েছে খোদ কালীঘাটে।
দীর্ঘদিন ধরে যে রাস্তাটি নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয়ে ঢাকা থাকত, আজ সকাল থেকে সেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট একবারে শান্ত। পুলিশের কিয়স্ক বুথগুলি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে। গতকালই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল রাস্তার ‘সিজার ব্যারিকেড’। আজ সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ গলির মুখে থাকা শেষ পুলিশকর্মীরাও বিদায় নেন। এখন সেখানে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছেন।
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী 'জেড প্লাস' স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ এবং সিকিওরিটি কন্ট্রোল বিভাগ একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা চালায়। সেই রিপোর্টে উঠে আসে যে, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকত।
পুলিশি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ নিরাপত্তা তাদের পাওয়ার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি পুলিশ মোতায়েন ছিল। এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো বিশেষ প্রশাসনিক ভিত্তি খুঁজে পাননি আধিকারিকরা। সেই কারণেই নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অতিরিক্ত সুরক্ষা বাহিনী তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভোটে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের চিরপরিচিত ভিড় আর দেখা যাচ্ছে না। যে গলিতে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি থাকত, আজ তা সাধারণ রাস্তার মতোই খাঁ খাঁ করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা বদলের সাথে সাথেই প্রশাসনের এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে শুধুমাত্র নিয়মমাফিক সামান্য কিছু নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে তাদের বাসভবনের সামনে।
