শিশুদের কোনো দোষ নেই। তারা নিষ্পাপ। তাদের অনেকেই বড় হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু এই শিশুরা কেন কলুষিত পরিবেশে বড় হবে। অনেক সময় যুক্তি দিয়ে বলা হয়, শিশুরা তো মায়ের কাছেই থাকছে। কিন্তু মায়ের পাশে কারা থাকে, সেটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুরা কেন কারাগারের দেয়াল দেখে মানুষ হবে। যারা মায়ের সঙ্গে আছে তারা তো দোষী নয়। তারা কেন এভাবে কারাবাসে থাকবে। সব খারাপ জিনিসগুলো তারা দেখছে এবং খারাপ কাজে অভ্যস্ত হচ্ছে। কারাগারে বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। এ ক্ষেত্রে কারা সংস্কারের একটা প্রশ্ন চলে আসে এবং আন্তরিকতা থাকলে এটি কঠিন কোনো কাজ নয়।
দিনে এসব শিশু বাইরে থাকবে। তারা স্কুলে যাবে। ডে কেয়ার সেন্টারে থাকবে, খেলবে। সন্ধ্যায় তাদের মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু যেখানে মায়ের সঙ্গে অন্যান্য আসামি থাকে সেখানে নয়। যেসব মায়েরা শিশু নিয়ে কারাগারে থাকে তাদের আলাদা রাখতে হবে। আর যেসব শিশু এখনো দুগ্ধপোষ্য সেই শিশুগুলো থাকবে মায়ের সঙ্গে এবং তারা অন্য আসামিদের চেয়ে আলাদা থাকবে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এই শিশুদের জন্য এসব ব্যবস্থা কীভাবে হবে। এখানে কিন্তু শত শত কোটি টাকা খরচের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সরকারের নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন পদ্ধতি চালু রয়েছে। একসময় আইনের সঙ্গে সংঘাতে আসা শিশু-কিশোরদের জেলখানায় রাখা হতো। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। তাদের জন্য সংশোধনাগার রয়েছে। যদি এটি করা যেতে পারে, তাহলে এই শিশুদের বিষয়ে কেন উদ্যোগ নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট তিনটি মন্ত্রণালয় চাইলেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, অনেক নারীর মামলা দীর্ঘদিন পড়ে আছে। সেই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসতে হবে। এখানে লিগ্যাল এইডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও লিগ্যাল এইড প্যানেল আইনজীবীদের অনেকেই নিরুৎসাহিত হন, কারণ তাদের বেতন-সুবিধা খুব কম। অন্যদিকে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে লিগ্যাল এইড বা সরকারি আইনজীবীদের জবাবদিহি ও তদারকি নেই। এ বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
লেখক : প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন
