গাজার অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা নতুন করে সহিংস হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ওয়াফার বরাতে জানা যায়, একাধিক এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
দক্ষিণ হেবরনের খিরবেত শুয়াইকা গ্রামে এক ব্যক্তি ও তার সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জানানো হয়েছে। আহত দুজনকে মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাবলুসের দক্ষিণে আল-লুববান আশ-শারকিয়া গ্রামে বসতকারীরা একটি বাড়িতে আগুন দেয়। রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকায় একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ঘরবাড়ির দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লেখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জেনিনের আল-আসাসা গ্রামে একটি কবর খুঁড়ে সদ্য দাফন করা মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়, কারণ সেটি একটি অবৈধ বসতির কাছে ছিল বলে দাবি করা হয়।
বেথলেহেমের দক্ষিণে এক ফিলিস্তিনিকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একই এলাকায় একদল ফিলিস্তিনিকে পিকনিক থেকে স্টান গ্রেনেড ছুড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়, এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তুকু শহরে মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় এবং কয়েকজনকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, বত্তির ও নাবলুস এলাকায় পৃথক অভিযানে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বসতকারীদের এসব হামলায় কার্যত কোনো বাধা দিচ্ছে না, ফলে তারা প্রায় দায়মুক্ত অবস্থায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরে সাত লাখেরও বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে বসবাস করছে।