ঘরের মাঠের অপরাজেয় ধারা বজায় রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সাথে ব্যবধান আরও কমিয়ে এনেছে পেপ গার্দিওলার দল। এ নিয়ে নিজেদের মাঠে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত রইল স্কাই ব্লুজরা।
গত সোমবার এভারটনের সাথে নাটকীয় ৩-৩ ড্রয়ের পর সিটির জন্য এই জয় ছিল অতি জরুরি। তবে ম্যাচের শুরুতেই ভড়কে যেতে পারত সিটি। মাইকেল কায়োডের থ্রো-ইন থেকে তৈরি হওয়া জটলায় সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে গোললাইন থেকে বল বাঁচান ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধে জেরেমি ডকু ও আর্লিং হালান্ড বেশ কিছু সুযোগ পেলেও ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক কুইভিন কেলেহারের দুর্দান্ত সব সেভে স্কোরলাইন ০-০ থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় সিটি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। এভারটনের বিপক্ষে করা দ্বিতীয় গোলটির মতোই ঠিক একই ঢঙে বক্সের ভেতর বাম প্রান্ত থেকে কাট-ইন করে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান জেরেমি ডোকু। তার এই জাদুকরী গোলটিই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। অ্যান্টোনি সেমেনিয়োর কাটব্যাক থেকে বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে নিজের গোড়ালির ছোঁয়ায় বল জালে ঠেলে দেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে হালান্ডের পাস থেকে নিচু শটে গোল করে ব্রেন্টফোর্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন বদলি হিসেবে নামা ওমর মারমুশ।
এই জয়ের ফলে গার্দিওলা তার সপ্তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে রইলেন। ৩৫ ম্যাচ শেষে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে আর্সেনালের চেয়ে ২পয়েন্টে পিছিয়ে তারা।
ম্যাচ শেষে রসিকতা করে গার্দিওলা বলেন, “কাম অন ইউ আয়রনস!” (আগামীকাল আর্সেনালের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট হ্যামের ডাকনাম)। অর্থাৎ গার্দিওলা চাইছেন ওয়েস্ট হ্যাম যেন আর্সেনালকে রুখে দেয়।
অ্যানফিল্ডে হতাশা ও দুয়োধ্বনি
সিটির জয়ের দিনে উল্টো চিত্র দেখা গেছে অ্যানফিল্ডে। চেলসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে লিভারপুল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি দেন হতাশ লিভারপুল সমর্থকরা। শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকার পথে এই ড্র অলরেডদের জন্য বড় এক ধাক্কা।
অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল
দিনের অন্য ম্যাচে তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলশূন্য ড্র করেছে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে জয় পেয়েছে বোর্নমাউথ এবং ব্রাইটন।
গোল আর অ্যাসিস্টে মেসি জেতালেন মায়ামিকে