পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেন তিনি। কালীঘাট মন্দিরের আদলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৈরি করা হয় বিজেপি সরকারের শপথমঞ্চ। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু; তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের গভর্নর আরএন রবি। এরপর একে একে শপথ নেন শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার আরও ৫ জন। তারা হলেন বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু। এর মধ্যে ক্ষুদিরাম সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন; মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। তবে এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি। শপথের দিন হিসেবে রবীন্দ্রজয়ন্তীকে বেছে নেওয়াও এই আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল। এর মধ্যে দিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো। শপথের পর অভিবাদন জানিয়ে শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডা। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রেসকোর্সে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ছাদখোলা গাড়িতে শপথ অনুষ্ঠানে আসেন তিনি। মঞ্চে উঠেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খক্ষপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ। আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ভোটের ফল জানা যায়। এর মধ্যে ২০৭টিতেই জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা। আর এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের রাজত্বের অবসান হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু। ভবানীপুর আসনে মমতাকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন তিনি।
তামিলনাড়ুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল টিভিকে
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঘনীভূত হওয়া অনিশ্চয়তার মেঘ অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপতি বিজয়ের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলছে নাটকীয়তা। তবে গতকাল শনিবার দুটি করে আসনে জেতা, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)- বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগাম (টিভিকে)-কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তামিলনাড়ুর বিধানসভায় টিভিকের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আসন দাঁড়িয়েছে ১২০-এ। গতকাল শনিবারই রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকারের সঙ্গে লোক ভবনে সাক্ষাৎ করেছেন বিজয়। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ গ্রহণ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
