গরমে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

লিনা আকতার

পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

তীব্র গরমে আপনার শরীরের ভেতরে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এ সময় কিডনির ওপর চাপ পড়ে সব থেকে বেশি। ইউরোলজিস্টদের মতে, গরমকাল এলে কিডনিকে একটি ‘কেমিক্যাল প্রেশারকুকারে’ পরিণত করে, যেখানে কিডনি স্টোনের সম্ভাবনা বাড়ে, আর যাদের কিডনি স্টোন থাকে তাদের সমস্যাও জটিল হয়। 

গরমকালে যাদের কিডনিতে স্টোনের প্রবণতা আছে, যাদের জিনগত কারণ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকে তাদের সাবধানতা খুব জরুরি। এ ছাড়া পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (চকউ) ও কিডনিতে স্টোন হওয়ার ঝুঁকি বেশি হয়, কারণ এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে কিডনিতে নানা খনিজ জমতে শুরু করে, যা স্টোনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।   

গরমে কেন কিডনিতে স্টোনের ঝুঁকি বাড়ে এবং প্রতিরোধের উপায়

কিডনি মূলত আমাদের শরীরের ফিল্টার। রক্ত থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত খনিজ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়াই এর কাজ। কিন্তু গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং তা অত্যন্ত ঘন হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারস্যাচুরেশন’ বলে।

প্রস্রাব ঘন হয়ে গেলে তাতে ক্যালসিয়াম এবং অক্সালেটের মতো খনিজগুলো দ্রবীভূত হতে পারে না। ফলে একে অপরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে ছোট ছোট ক্রিস্টাল বা দানা তৈরি করে, যা পরবর্তীকালে যন্ত্রণাদায়ক পাথরে পরিণত হয়। আপনি সারা দিনে কতটা পানি খাচ্ছেন, তার চেয়েও বড় সূচক হলো আপনার প্রস্রাবের রঙ। ইউরোলজিস্টরা একে ‘কালার চেক প্রোটোকল’ বলেন।

ফ্যাকাশে হলুদ বা স্বচ্ছ : শরীর সঠিক হাইড্রেটেড আছে।

আপেল জুসের মতো গাঢ় রঙ : বুঝবেন শরীর বিপদের দিকে যাচ্ছে। খনিজগুলো ঘন হতে শুরু করেছে, যা পাথর তৈরির আদর্শ পরিবেশ।

তাই গরমের সময় দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। রাতে দীর্ঘক্ষণ পানি না খাওয়ায় প্রস্রাব বেশি ঘন হয়ে যায়, যা পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

কিডনি স্টোনের বিরুদ্ধে সব থেকে সহজ লড়াই করতে পারে লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফল। একে বলা হয় ‘লেমনেড থেরাপি’। লেবুর রসে থাকে সাইট্রেট, যা প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়ামের সঙ্গে নিজেকে জুড়ে নেয়। ফলে ক্যালসিয়াম আর অক্সালেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাথর তৈরি করতে পারে না। তাই প্রতিদিনের পানীয়তে অন্তত ৩০ মিলি পাতিলেবু বা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তবে মনে রাখবেন, এতে চিনি মেশাবেন না। অতিরিক্ত চিনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত