কোরবানির হাট ঘিরে ব্যস্ত খামারিরা

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলাজুড়ে খামারিদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বাঁশখালী পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে গরু-ছাগল, মহিষ মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোরবানির জন্য বাঁশখালীতে পশুর চাহিদা রয়েছে ৫৬ হাজার ১১০টি। এর বিপরীতে সরবরাহ প্রস্তুত রয়েছে ৬০ হাজার ৩৮৯টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার ২৭৯টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। গত বছর এ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল প্রায় ৪৬ হাজার, আর প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রায় ৬২ হাজার, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বাঁশখালীতে বর্তমানে তিনটি স্থায়ী ও ১২টি অস্থায়ীসহ মোট ১৫ থেকে ২০টি পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এসব হাটে উপজেলার বিভিন্ন খামারে লালিত পশু বিক্রি হবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানির জন্য উপজেলায় গরু রয়েছে ৩৮ হাজার ৩৩২টি, মহিষ ৪ হাজার ৬৬২টি, ছাগল ১৪ হাজার ৭৮০টি এবং ভেড়া ২ হাজার ৬১৫টি। এতে করে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক গরু মোটাতাজাকরণ খামার এবং শতাধিক ছাগলের খামার রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বিক্রির উপযোগী ৮ থেকে ১০টি গরু ও ছাগল লালন করা হচ্ছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির পশুর কেনাবেচা সামনে রেখে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুর পরিচর্যায়। অধিকাংশ খামারেই দেশি জাতের গরু ও ছাগল লালন করা হয়েছে। এসব পশুকে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা ও ধানের কুঁড়াসহ প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু লালন-পালন করেছি। তবে শেষ মুহূর্তে যদি বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে, তাহলে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ব এবং লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বছর পশুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে আগামীতে খামার আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, ‘এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় চার হাজারেরও বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত বছর এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরও বেশি ছিল। বিগত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে খঁসঢ়ু ংশরহ ফরংবধংব (এলএসডি)-এর প্রভাবে অনেক বাছুর আক্রান্ত হওয়ায় এবার গরুর সংখ্যা কিছুটা কম। পাশাপাশি গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা কিছুটা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যার প্রভাব উৎপাদনের ওপর পড়েছে। আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়মিতভাবে খামারিদের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ছাড়া প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোরবানির বাজারেও মেডিকেল টিম সক্রিয় থাকবে। আশা করছি, এ বছর খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত