টি-টোয়েন্টি যুগের 'ব্র্যাডম্যান' বৈভব সূর্যবংশী

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ক্রিকেট বিশ্ব সাধারণত একজন ব্যাটারের সামর্থ্য বিচার করে তার রক্ষণ বা টেকনিক দিয়ে। কিন্তু ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী যেন এক ভিন্ন গ্রহের ক্রিকেটার। তিনি এমন এক যুগে বড় হয়েছেন যখন টি-টোয়েন্টিই ক্রিকেটের মূল ধারা। ইএসপিএন-এর সাম্প্রতিক ডাটা অ্যানালাইসিসে উঠে এসেছে বৈভবের ব্যাটিংয়ের এমন কিছু অবিশ্বাস্য দিক, যা দেখে খোদ ক্রিকেটবোদ্ধারাই তাকে টি-টোয়েন্টি যুগের ব্র্যাডম্যান হিসেবে অভিহিত করছেন।

পরিসংখ্যানের ভাষায় রান অ্যাডেড ইমপ্যাক্ট বা রাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি নির্দেশ করে একজন ব্যাটার প্রতি ১০০ বলে দলের স্কোরে কত রান যোগ করছেন। বৈভবের রাই স্কোর ০.৫২,  যা বর্তমান বিশ্বের বড় বড় হার্ডহিটারদের চেয়েও অনেক বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা টিম ডেভিডের স্কোর ০.৩৮। অন্যদের চেয়ে বৈভবের এই বিশাল ব্যবধানই তাকে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের মতো অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। বৈভব প্রতি ইনিংসে দলকে গড়ে প্রায় ৯ রান বাড়তি এনে দিচ্ছেন, যেখানে হেনরিখ ক্লাসেনের মতো তারকাও দিতে পারছেন ৫.৮ রান।

বৈভব সূর্যবংশী

পেস বোলারদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো ৬ থেকে ৮ মিটারের 'গুড লেন্থ'। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ ও ২০২৬ আইপিএলে অন্য ব্যাটাররা যেখানে এই লেন্থে মাত্র ৬.৬% বলে ছক্কা মেরেছেন, বৈভব সেখানে ১৬.৪% বলকেই সীমানা ছাড়া করেছেন। যেখানে সাধারণ ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট ১৩৪, বৈভবের সেখানে ২১৮। তার এই 'ব্র্যাডম্যানোচিত' দাপটের কাছে বোলারদের কোনো লেন্থই এখন নিরাপদ নয়।

বৈভবের 'আইকনোক্লাস্টিক' বা প্রথা-বিরোধী টেকনিক

জুবিন বারুচা এবং বায়োমেকানিক্যাল ডাটা অনুযায়ী, বৈভবের সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৩টি গোপন চাবিকাঠি:

অফ-সাইড লিন: বল ডেলিভারির সময় বৈভব অফ-সাইডের দিকে প্রায় ৪৫ ডিগ্রির বেশি কোণে ঝুঁকে থাকেন। এটি তাকে বলের লাইনের একদম বাইরে থাকতে সাহায্য করে।

ব্যাক-ফুট ডমিন্যান্স: প্রচলিত কোচিংয়ের বাইরে গিয়ে বৈভব তার শরীরের পুরো ওজন রাখেন পেছনের পায়ের ওপর। এতে তিনি বলের গতির সাথে মানিয়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড় শট খেলার সময় পান।

শরীরের কয়েলিং :অনেকটা বেসবল ব্যাটারদের মতো বৈভব তার শরীরের উপরের অংশকে পেঁচিয়ে শক্তি সঞ্চয় করেন। বল আঘাতের ঠিক আগে যখন এই মোচড় খুলে যায়, তখন ব্যাটের গতি ও শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে।

তার পুরনো কোচ মণীশ কুমার ওঝা বলেন, "বৈভব যখনই অনুশীলন করেছে, আমি তাকে কখনও রক্ষণাত্মক শট প্র্যাকটিস করতে দেখিনি।" এমনকি লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে একটি ম্যাচে মহসিন খানের ৫টি ডট বল খেলার পর ষষ্ঠ বলে আউট হয়ে তিনি আক্ষেপ করেছিলেন যে, টি-টোয়েন্টিতে 'মেডেন ওভার' খেলার চিন্তা করাও তার কাছে অপরাধের মতো।

ডাটা অনুযায়ী, এই 'আধুনিক ব্র্যাডম্যানের' জন্য একমাত্র অস্বস্তির জায়গা হতে পারে নিখুঁত ইয়র্কার বা লো ফুল টস। এছাড়া হার্ড-লেন্থের স্লোয়ার বল তাকে কিছুটা পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তবে যে গতিতে এই কিশোর নিজেকে উন্নতি করছে, তাতে খুব শীঘ্রই বোলারদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত