১৫৫ পদের ১৩৯টি শূন্য

জনবল সংকটে চন্দনাইশ পৌরসভা, ব্যাহত নাগরিক সেবা!

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১২:২১ পিএম

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ হলো ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। এ পৌরসভায় ১৫৫ স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। ১৩৯টি শূন্য পদ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। সব মিলিয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। চন্দনাইশ পৌরসভায় জনবল সংকটে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, সড়কবাতি, নালা-নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকার কথা। তবে প্রথম শ্রেণির মর্যাদাপূর্ণ এই চন্দনাইশ পৌরসভায় এখনো ৫০ ভাগও পূরণ হয়নি। পৌর বাসিন্দারা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও সেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পূর্ত, বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক শাখা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, বাজার পরিদর্শক, লাইসেন্স পরিদর্শক, কসাইখানা পরিদর্শক, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন শাখা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা, স্টোর কিপারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৩৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

চন্দনাইশ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট এ পৌরসভা ‘গ’ শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৫ সালের ১ আগস্ট ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পরে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর একে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

চন্দনাইশ পৌরসভার স্থায়ী নিয়োগে ১৫৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ১৩৯টি পদই রয়েছে শূন্য। বর্তমান আছে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীসহ মাত্র ১৬ জন। এই স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে পৌরসভাটিতে কতটা গতিতে চলতে পারে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, চন্দনাইশ পৌরসভার ১৭.০৮ বর্গ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি রাস্তাই কাঁচা। সামান্য পাকা রাস্তার বেশির ভাগই জরাজীর্ণ। বৃষ্টির মৌসুমে নাগরিকদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। ময়লা সংরক্ষণ বা ডাম্পিংয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই। ফলে পৌরসভার যত্রতত্রই দেখা যাচ্ছে ময়লার স্তূপ। বৃষ্টি হলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

তাই পৌরসভার প্রায় ৬৮ হাজার মানুষের নাগরিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকটে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম।

সচেতন মহল বলছে, শূন্য পদে জনবল পদায়ন করলে নাগরিক সেবা কার্যক্রমে গতি ফিরবে। জনবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। অথচ নিয়মিত পৌর কর পরিষদ করে নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

গাছবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন চৌধুরী  বলেন, পৌরসভায় বেহাল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সড়ক ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। পৌরসভার ও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য আজ পর্যন্ত কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় রাত হলেই রাস্তা-ঘাটে তৈরি হয় ভুতুড়ে পরিবেশ। 

পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, জনবল বৃদ্ধির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত